মঙ্গলবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩ মাঘ ১৪২৯

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে হিজড়া নিহত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রকাশ: রোববার, ২০ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৪৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: ডেল্টা টাইমস্

ছবি: ডেল্টা টাইমস্

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার মোহরার রেললাইন কেন্দ্রিক মাদকের আস্তানা থেকে ৫ হাজার ইয়াবাসহ মাদকসম্রাট হানিফকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে ভাইকে ছিনিয়ে নিতে বিশাল হিজড়া বাহিনী নিয়ে কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় বোন নাজমা আক্তার নাজু। ফাঁড়ি ভাঙচুর করে মাদককারবারি হানিফ ও সহযোগী শরীকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিতে পারলেও দিতে হয়েছে নিজের প্রাণ। আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে হানিফ বাহিনীর সংঘর্ষে গুলিতে গুরুতর আহত হয় নাজমা আক্তার নাজু। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ তা আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পর শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে মৌলভী বাজারের ৯নম্বর পোল এলাকায় হানিফের ডেরায় ব্লক রেইড দেয় পুলিশ। সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার মোখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে চান্দগাঁও থানা ও সিএমপির দাঙ্গা পুলিশের বিশাল বহর সেখানে অভিযানে নামে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে তিন হিজড়াসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন নারী, তিনজন হিজড়া ও তিনজন ছেলে রয়েছে। এছাড়া পলাতক হানিফকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জের বাসিন্দা হানিফ মোহরার ৯নম্বর ও ৮নম্বর রেল লাইন কেন্দ্রিক ইয়াবা-মদসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। তার একাজে হিজড়া নামধারী বিশাল বাহিনী রয়েছে তার। সরকারদলীয় নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা দিয়ে দেদারসে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল হানিফ। তার নামে মাদক-খুনসহ একাধিক মামলা থাকার পরও পুলিশের একাধিক অভিযানে সে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশি অভিযানে তার সহযোগিরা আটক হলেও সে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির উপ কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান বলেন, হানিফের আস্তানায় আমরা রাতে তিন প্লাটুন পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়েছি। সেখান থেকে মোট সাতজনকে আটক করে ফাঁড়িতে এনেছি। হানিফকেও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ফাঁড়িতে হামলা করে ইয়াবা কারবারি ভাই হানিফকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হানিফের বোন নাজমা আক্তার নাজুর নিহতের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও ডিসি মোখলেসুর রহমান বলেন, উনি মারা গেলেও যেতে পারে। আমি অভিযান নিয়ে বিজি আছি, তাই বলতে পারছিনা।

তবে চমেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেছেন, কালুরঘাট থেকে আনা গুলিবিদ্ধ নাজমা আক্তার নাজুকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ তার লাশ চমেক হাসপাতালের মর্গে রেখেছে।

এর আগে শনিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার মোহরার রেললাইন কেন্দ্রিক মাদকসম্রাট হানিফের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। হানিফকে ডেরা থেকে আটকের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগিরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে হানিফের হিজড়া বাহিনীর সংঘর্ষও হয়। এরআগে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর ইয়াবাসহ হানিফকে র‌্যাব আটক করলেও তার হিজড়া বাহিনী সড়ক অবরোধ করে তাকে ছিনিয়ে নেয়।

ডেল্টা টাইমস্/সিআর/মুহাম্মদ দিদারুল আলম/একে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]