সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

যে ৫টি প্রাণীকে অমর মনে করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৪ এপ্রিল ২০১৯

/ ফিচার
-ফাইল ছবি

 আমাদের জীবজগতের একটি অবধারিত ঘটনা মৃত্যু। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি প্রাণীর জীবনের অবসান হয় মৃত্যুর মাধ্যমে আর এটার স্বাদ সকল কিছুকেই একদিন গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু প্রকৃতিতে এমন কিছু প্রাণী আছে যারা অসাধারন সব উপায় অবলম্বন করে মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে জানে। এসব প্রাণীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার পর এদেরকে অমর প্রাণী বললেও ভুল হবে না কিন্তু হ্যাঁ আমরা এদেককে কখনোই অমর বলবো না।

আজকে এইরকম 5টি প্রাণীদের নিয়েই আমাদের জীবজগতের এই আয়োজন।

১। টার্ডিগ্রেড (Tardigrade): এক মিলিমিটারের মতো এ অতিক্ষুদ্র প্রাণীটির আরেক নাম ওয়াটার বেয়ার বা পানির ভালুক। এরা তেজস্ক্রিয়তা, অতিমাত্রায় ঠান্ডা, চরম পানিশূণ্যতা থেকে শুরু করে মহাশূন্যেও টিকে থাকতে পারে। পৃথিবীতে যত রকম মহাজাগতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে তার সবগুলোই মোকাবেলা করে টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এই টার্ডিগ্রেডের। এদের সাধারণত পুকুরের শুকিয়ে যাওয়া উদ্ভিদের মধ্যে পাওয়া যায়।

২। পুনরুৎপাদনশীল পোকা (Planarian): কৃমি জাতীয় এই পোকা গুলোকে বলা হয় প্ল্যানেরিয়ান। এই প্রাণীটির প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পুনরুৎপাদন ক্ষমতা। এই পোকাকে যদি কেটে দুই ভাগ করা হয়, তবে সেখান থেকে দুটি পৃথক পৃথক পোকা জন্মাবে। এভাবে অগণিত বার পুনরুৎপাদন সক্ষম এ প্রাণী।

৩। অমর জেলিফিশ (Turritopsis Dohrnii): ক্ষুদ্রাকৃতির প্রচলিত নাম অমর জেলিফিশ আর বৈজ্ঞানিক নাম (Turritopsis Dohrnii)। মৃতুকে ফাঁকি দিতে এরা নিজেদের বয়সকে উল্টোপথে পরিচালিত করতে পারে, এটা শুনতে খুব অবাক হলেও এটাই সত্যি। বিজ্ঞানিদের মতে এসব জেলিফিশ রোগাক্রান্ত হলে বা আঘাত পেলে দেহের কোষগুলো আবার নবীন অবস্থায় ফিরে যায় ফলে কোষগুলো আবার শুরু থেকে বয়সপ্রাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে আর এই কৌশলে মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দেয় এই প্রক্রিয়া। এই জেলিফিস নিয়ে গবেষণাগারে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে প্রাণীবিজ্ঞানীরা, কিন্তু এখন পর্যন্ত এদের বয়স নির্ণয় করার কোন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি কিম্বা জানা যায়নি কিভাবে ওরা এটা করে।

৪। গলদা চিংড়ি (Lobster): সমুদ্রের তলদেশে ঘুরে বেড়ানো গলদা চিংড়ি অমর কি না তা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে কারণ এদের মৃত্যুর জন্য বয়সকে দায়ী করা যায় না। সাধারণ রোগাক্রান্ত হয়ে বা শিকারি প্রাণীর আক্রমণই এদের মৃত্যুর প্রধান কারণ তাছাড়া, গলদা চিংড়ির দেহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাড়তে থাকে তাই ঠিক কত বছর বয়সে একটি গলদা চিংড়ির স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তা বলার কোন উপায় থাকছে না। কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি গলদা চিংড়ি পাওয়া গেছে, যার বয়স ১৪০ বছর।

৫। কচ্ছপ (Tortoise): আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম ধীরগতির কচ্ছপ দৌড় প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলে দিয়েছিল খরগোশকে কিন্তু বাস্তবে এই প্রাণীর ক্ষমতা আরো বিস্ময়কর। ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদি শিকারি প্রাণী বা রোগাক্রান্ত না হয় তবে কচ্ছপ হয়তো অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বাঁচবে। সহজভাবে বলাযায় অমর প্রাণীর খেতাব পাওয়ার মতো সম্ভাব্য সব বৈশিষ্ট্যই এর মধ্যে বিদ্যমান। এই প্রাণীর গড় আয়ু শুনলেও ‘থ’ হয়ে যাবেন, গড়ে কচ্ছপরা ৩০০ বছরেরও বেশি বাঁচে।

যদি আমাদেরও এই সকল প্রাণীদের মতো শক্তি থাকতো তাহলে কেমন হতো? মৃত্যু থেকে লুকাবার কৌশল যদি জানতে পারতাম এদের মতো, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার বিধান অনুযায়ী আমাদের সবাইকেই একদিন মরতে হবে তবে মৃত্যুর পর সবাই আমাদেরকে যেন মনে রাখে আমাদের কর্মের মাধ্যমে আমরা সবসময় সেই চেষ্টাই করবো।