সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঋতুরাজ বসন্তের উপহার শিমুল ফুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯

/ ফিচার
-ফাইল ছবি

 ফুল প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ উপহার। তেমনি ঋতুরাজ বসন্তের একটি উপহার হচ্ছে শিমুল ফুল। বাংলাদেশের প্রায় সব অংশেই শিমুল ফুলের দেখামেলে। তার মধ্যে এ বসন্তে আমাদের দেশের শহর কিংবা শহরতলী অথবা গ্রামের পথে প্রায়ই দেখা মেলে রক্তিম মনোলোভা শিমুল ফুলের। গাছ ভর্তি লাল টকটকে ফুলের কোন সৌরভ না থাকলেও রক্তিম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন না এমন ব্যক্তি বোধহয় খুব কমই মেলে। শিমুল আমাদের অত্যন্ত পরিচিত  একটি ফুল। তাই শিমুল শব্দটা উচ্চারণ করলে সবার আগে এর রক্তরাঙা চেহারার কথাই নজরে ভাসে।

বোম্বাক্স গণের অন্তর্গত পাতাঝরা বৃক্ষ জাতীয় তুলা উৎপাদক উদ্ভিদ শিমুল। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মালোয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় এ গাছ প্রচুর জন্মে। লম্বায় প্রায় ১৫-২০ মিটার হয়। এর শাখা-প্রশাখা অপেক্ষাকৃত কম। সরল ও বৃত্তাকারভাবে চারদিকে বিস্তৃত। বাকলে কাঁটা থাকে। কাঁটার অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ণ এবং গোড়া বেশ মোটা।

শিমুল ফুলের রং গাঢ় লাল। কখনো কখনো ফিকে লাল রঙের ফুলও দেখা যায়। তবে স্টো পানির অভাবের কারণেই। আবার সোনালি ধরনের একরকম শিমুল দেখা যায়। শিমুল ফুল ঘন্টাকৃতির। পাঁচটি পাঁপড়ি থাকে। পাঁপড়ি ঘন, সুসজ্জিত। ফুলের ব্যাস ৫-৭ ইঞ্চি হতে পারে। পাঁপড়ি ৪ ইঞ্চি লম্বা। পাঁপড়ি বেশ পুরু। অন্তত কাচের চায়ের কাপের মতো পুরু। অতিরিক্ত পুরুত্বের কারণে শিমুল ফুলের ওজনও অনেক বেশি। একেকটা ফুলের ওজন ৩০-৫০ গ্রাম হবে। শিমুলই একমাত্র বৃক্ষ যার ডাল ফুলের ভারেই নুয়ে পড়ে।

শিমুল বহুবর্ষজীবি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। বাংলার মাঠে-ঘাটে, রাস্তার পাশে অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠে শিমুল গাছ। সাধারণত বর্ষাকালে পানি পেলে জন্মায়। দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। মাত্র ৪-৫ বছরের মধ্যে উচ্চতায় আশপাশের আম-কাঁঠাল জাতীয় ২০-২৫ বছরের পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। বছরে ৬ মাস সবুজ পাতায় সুশোভিত থাকে শিমুলগাছ।

হেমন্তের শুরতেই সবুজ পাতা হলদেটে হয়ে যায়। শীতের শুরুতেই সব পাতা ঝরে গাছ পুরোপুরি ন্যাড়া হয়ে যায়। বসন্ত কালেঅন্যান্য বৃক্ষরা যখন নব পল্লবে সেজে ওঠে তখন শিমুল গাছে শুধু কুঁড়ি বের হয়। সেই বোধহয় ভালো। নইলে শিমুলের পাতার যে সৌন্দর্য, সেটা এর ফুলের কাছে একেবারে ফিকে হয়ে যেত। আবার উল্টো ঘটনায় ঘটতে পারত।