মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

ধুন্দল চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৬ মার্চ ২০১৯

/ কৃষি
-ফাইল ছবি

ধুন্দুল সবজি জাতীয় ফল। সবজি হিসেবে ধুন্দুলের চাহিদা বেশ। ধুন্দুলের তরকারি খেতে বেশ মজাদার ও সুস্বাদু।
ধুন্দল চাষের জমি

চাষে জমি উঁচু, পানি জমে থাকে না, গাছের কোনো ছায়া থাকে না এমন জমিতে ধুন্দুলের চাষ ভাল হয়। ধুন্দুল চাষের মাটি হিসেবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি উত্তম । জমিতে সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধা থাকতে হবে।
ধুন্দল চাষের বীজের পরিমাণ

হেক্টরে প্রতি জমিতে ১.৫- ২.০ কেজি বীজের দরকার হয়।
ধুন্দল চাষের জমি প্রস্তুতকরণ

জমি ৩- ৪ বার ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে ধুন্দুল চাষের জন্য প্র্রস্তুত করতে হবে। জমির মাটি ভাল করে আগাছামুক্ত ও ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। এরপর ১ ফুট গভীর ও ১.৫ ফুট চওড়া করে মাদা তৈরি করতে হবে। এক মাদা থেকে অপর মাদার দূরত্ব হবে ৪-৫ ফুট। জমির চেয়ে মাদা কমপক্ষে ৫-৬ ইঞ্চি উঁচু করে তৈরি করতে হবে।
ধুন্দল চাষের সার প্রয়োগ

প্রতি মাদায় পচা গোবর, ছাই, পচা কচুরিপানা, জৈব সার ইত্যাদি মিলিয়ে ৫-৬ কেজি, ১০০ গ্রাম টিএসপি, ৬০-৭০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করে মাটিতে ভালোমতো মিশিয়ে দিতে হবে। এবং ৫-৬ দিন পর বীজ বপন করতে হবে।
ধুন্দল চাষের বীজ বপন

বীজ বপনের ২৪ ঘণ্টা আগে বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। প্রতি মাদায় ৪-৫ টি বীজ পুঁতে দিতে হবে।
ধুন্দল চাষের সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা

মাটির অবস্থার উপর ভিত্তি করে জমিতে সেচ দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে জমিতে যেন অতিরিক্ত পানি না জমে থাকে। এবং থাকলে তা বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
ধুন্দল চাষের পরিচর্যা

প্রতি মাদায় ৩-৪টি সুস্থ-সবল গাছ রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে। গাছ বৃদ্ধির সাথে সাথে জমিতে গাছের গোড়ার পাশে বাঁশের কুঞ্চি বা কাটি পুতে দিতে হবে। যাতে করে মাচায় বা জাংলায় সহজে উঠতে পারে। জমিতে মাচা ৩-৪ ফুট উচু করে দিলে ভাল হয়। জমিতে আগাছা জন্মালে পরিষ্কার করে দিতে হবে। ১৫-২০ দিন পর পর প্রতি মাদায় ৫০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
ধুন্দল চাষের রোগ-বালাই

ধুন্দুল ক্ষেত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রোগাক্রান্ত ও মরা পাতা পুঁতে ফেলতে হবে। ফল ছিদ্রকারী পোকা ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। এ রোগের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ধুন্দল সংগ্রহ

রোপণের দুই মাসের মধ্যে ধুন্দুল সংগ্রহ করা যায়। ফল পরিপক্ক হলে বোঁটা কেটে সংগ্রহ করতে হবে।
ধুন্দল চাষে ফলন

রোগমুক্ত, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী চাষ করলে হেক্টর প্রতি ১০-১২ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন হয়।