মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

পাখিদের কিছু বিচিত্র তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

/ জলবায়ু পরিবেশ
-ফাইল ছবি

স্নিগ্ধ, পালকে আবৃত, রঙ্গিন প্রাণী পাখি পরম শান্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক। মুক্ত পাখির আকাশে ওড়া দেখে সবারই ইচ্ছে হয় আকাশে উড়তে। চমৎকার প্রাণী পাখি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য জেনে নেই চলুন।১। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পাখি ১৫০ মিলিয়ন বছর পূর্বে জুরাসিক যুগে বাস করতো। যার নাম আরকিওপ্টেরিক্স এবং এর গড়ন ছিলো দাঁড়কাকের মত।

২। ঘুঘু, টিয়া ও লাভবার্ড এর মত পাখিকে পোষ মানানো যায়। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকতে পছন্দ করে। ফ্লেমিঙ্গো বা রাজহাঁস সারাজীবনের জন্য জোড় বাঁধে এবং এদের কেউ কেউ আবার তার সঙ্গীর সাথে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে একসাথে থাকে।

৩। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, পাখি থেরোপড ডাইনোসর থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

৪। পাখিদের একজোড়া জটিল ও দক্ষ ফুসফুস থাকে যা মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ীর চেয়ে অনেক বেশি জায়গা দখল করে থাকে।

৫। সারা বিশ্বের সর্বত্র প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি ছড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানীরা এদের ৩০ টি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছেন।

৬। প্রিয় কার্টুন ক্যারেক্টার রোড রানার বাস করে দক্ষিণ-পশ্চিম আমেরিকার মরুভূমিতে। এরা কোকিল পরিবারের পাখি। এরা খুব কমই উড়তে পারে তবে দৌড়াতে পারে।

৭। কিছু পাখি যেমন- কাক ও বাবুই পাখি খুবই স্মার্ট। তারা খুব সুন্দর করে বাসা তৈরি করতে পারে। কাকের সেরিব্রাল হেমিস্ফেয়ার বড় থাকে।

৮। যখন বিশ্রামে থাকে তখন পাখির হৃদপিণ্ড মিনিটে ৪০০ বার স্পন্দিত হয়। আর পাখি যখন উড়ে তখন পাখির হৃদপিণ্ড মিনিটে ১০০০ বারের বেশি স্পন্দিত হয়।

৯। পুরুষ পাখির চাকচিক্যময় পালক থাকে, তারা নাচে ও গান গায়। স্ত্রী পাখি যে পুরুষ পাখিকে দেখে আকৃষ্ট হয় তাকেই নিজের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়।

১০। পাখির শরীরে যে হাড় থাকে তা খুবই ফাঁপা থাকে। এজন্যই তাদের উড়া সহজ হয়।

১১। দেশান্তরে যাওয়ার সময় অনেক পাখি কোন বিরিতি না নিয়ে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে পারে। অনেক পাখি বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে বংশবৃদ্ধির জন্য উঁচু স্থানে অভিপ্রয়ান করে।

১২। সবচেয়ে ক্ষুদ্র পাখি হামিং বার্ড যার আকার ৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩ গ্রাম। এই ক্ষুদ্র পাখি উল্টোদিকে উড়তে পারে।

১৩। কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারেনা যেমন- অস্ট্রিচ, পেঙ্গুইন ও ডোডো পাখি।

১৪। পাখিরা প্রতিদিন তাদের দেহের ওজনের দ্বিগুণ পরিমাণ খেয়ে থাকে। উড়ার জন্য অনেক এনার্জি প্রয়োজন হয় বলেই তাদের বেশি খেতে হয়।

১৫। পাখির সবচেয়ে পরিচিত প্রজাতি হচ্ছে মুরগী। পৃথিবীতে অন্য পাখিদের তুলনায় মুরগীর সংখ্যাই বেশি।

১৬। আলফ্রেড হিচককের “দ্যা বার্ড” সিনেমাটির কথা মনে আছে? শঙ্খচিলের ভয়ংকর আচরণের দৃশ্য ফুটে উঠেছিলো ছবিটিতে। আমরা মনে করি শঙ্খচিল মাছ খাওয়ার প্রজাতি। কিন্তু না কেল্প সিগাল এর লক্ষ্য দৈত্যাকার তিমি যাদের দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট দীর্ঘ।

১৭। তোতা পাখি কথা বলতে পারে এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আফ্রিকার ধূসর তোতা পাখি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বাচাল পাখি। বেশিরভাগ তোতা পাখি মোটে ৫০ টি শব্দ বলতে পারে। অপরদিকে আফ্রিকার ধূসর তোতা পাখি ৮০০ শব্দের বেশি শিখতে পারে!

১৮। বাজপাখি ২০০ মাইল বেগে ছোঁ মারতে পারে।

১৯। পৃথিবীর একমাত্র বিষাক্ত পাখি হচ্ছে পাপুয়া নিউ গিনির হুডেড পিটুহই। এদের পালক ও ত্বকে বিষ থাকে।

২০। আমেরিকান টার্কি শকুন ভূগর্ভস্থ জ্বালানী পাইপের ফাটল শনাক্ত করতে সাহায্য করে ইঞ্জিনিয়ারদের। শকুন যেহেতু পচা মাংস খায় সেহেতু জ্বালানীর গন্ধটা তার কাছে তার খাবারের মত মনে হয়। এছাড়াও ক্লাস্টার পাখি লাইনের কোথায় মেরামত করতে হবে তা দেখাতে পারে।

২১। হামিংবার্ডের ডিমের আকার একটি মটর দানার মত। অপরদিকে সবচেয়ে বড় পাখি অস্ট্রিচের ডিমের আকার ফুটি বা তরমুজের সমান।

২২। পেঁচা তাদের মাথা ৩৬০ ডিগ্রী পর্যন্ত ঘুরাতে পারে কিন্তু চোখ ঘুরাতে পারেনা।

২২। কিউই পাখি অন্ধ তাই তারা গন্ধ শুঁকে শিকার করে।

২৩। মুরগীর কিছু প্রজাতি রঙ্গিন ডিম পাড়ে যেমন- আমেরাউকানা ও আরাউকানা সবুজ বা নীল ডিম পাড়ে।