সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মাঘেই ফাগুন লেগেছে শিমুলের বনে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

/ ফিচার
-ফাইল ছবি

এখন শীতকাল, বসন্তের এখনো ঢের বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও প্রামে যাদুকাটা তীরের বাগানে শিমুল ফুটেছে। বসন্তে নয়, মাঘেই ফাগুন লেগেছে শিমুলের বনে। হাজারো ডালে ফুটে থাকা ফুল মন রাঙিয়ে দিচ্ছে শীতেই।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গাছে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করলেও এবার ফুটেছে মধ্য জানুয়ারি থেকেই। তবে যাদুকাটা তীরের এই শিমুল ফুল এবার হয়তো বসন্তে বাউল মন রাঙাবে না। ঋতুরাজের আগমনের আগেই হয়তো ঝরে পড়বে এর মুকুল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছগুলোয় ফুটে থাকা শিমুলের লাল পাপড়ির রক্তিম আভা বাতাসে দোল খাচ্ছে। হাওর, পাহাড়, নদীর পাশের নতুন আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে লালে লাল শিমুল বাগানটি।

২০০২ সালে বাণিজ্যিক ভাবনা থেকে উপজেলার বাদাঘাট ইউপির প্রয়াত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন যাদুকাটা নদীর পশ্চিমপারের ৯৭ বিঘা অনাবাদি ওই ধু ধু বালিয়াড়িতে শিমুল বাগানটি তৈরি করেন। তিন হাজার শিমুলের চারা রোপণ করা বাগানের গাছগুলো গত ১৫ বছরে অনেক বড় হয়েছে, পত্রপল্লবে পেখম মেলছে, গাছে গাছে প্রস্ফুটিত ফুলে লালে লাল হয়ে আছে যাদুকাটা নদীর তীর। আর দেশের সবচেয়ে বড় এই শিমুল বাগানের প্রাকৃতিক-নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছেই। পাতাঝরা দিনের শুরুতে ডালে ডালে ফুটে থাকা লাল ফুল যেমন রাঙিয়ে দেয় দর্শনার্থীদের মন, বর্ষায় সারিবদ্ধ শিমুল বাগানের সবুজ পাতার সুনিবিড় ছায়াও তেমনি দিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। তাইতো বাগানটিতে বর্ষায়ও শত শত পর্যটক ছুটে আসেন। প্রতিদিন বিকালে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের গ্রামের দর্শনার্থীরাও।

প্রয়াত বাগান মালিকের ছেলে বাদাঘাট ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন জানান, এবারই প্রথম শীতকালে ফুলের মেলা বসেছে। শিমুল বাগানটি তার প্রয়াত বাবা জয়নাল আবেদীনকে সারা দেশের মানুষের সামনে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

ট্রাভেল গ্রুপ ‘ভ্রমণ পোকা’-এর পরিচালক জানান, গত বছরের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে বাগান দেখতে আসেন তিনি। এবার আগেভাগে ফুল ফোটায় ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই আসছেন তারা। তার মতে,  বাগানে ফুল ফোটার মুহূর্তটা অন্যরকম।

বেড়াতে আসা পর্যটক-দর্শনার্থী এবং এলাকার লোকজন বলেন, ‘বাগানটি দেখতে অসাধারণ। এত বড় শিমুল বাগান দেশের কোথাও আর দেখেননি। আরও আধুনিক করে সাজালে এটি হবে আলোচিত পর্যটনস্পট।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুরের পাহাড়ঘেরা সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নতুন আকর্ষণ এই শিমুল বাগানটি। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা আসছেন এখানে।