সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পৃথিবীর সবথেকে রোমান্টিক ১০ শহর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

/ ফিচার
-ফাইল ছবি

 ভালবাসা প্রকাশ করার জন্য জায়গা টা মুখ্য বিষয় নয়। মনের মানুষের হাত ধরে যেখানেই যাওয়া যাক না কেন সেখানটাকেই যেন স্বর্গ বলে মনে হয়। তারপরও প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে সুন্দর, মনোরম, নিরাপদ এবং অবশ্যই রোমান্টিক একটি যায়গায় ঘুরতে যেতে চাই নিশ্চয়ই আমরা সবাই। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায় এই ভেবে ভেবে যদি বিরক্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাদের জন্যই আজকের এই আয়োজন।

প্যারিস, ফ্রান্স
পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক শহর কোনটি? এমন প্রশ্নের জবাবে সবাই একবাক্যে মেনে সেবেন যে শহরটিকে; তার নাম প্যারিস। ফ্রান্সের প্যারিস নগরীকে বলা হয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিশেল। এই নগরীকে দেখে প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ নেই। যারা একবার ফ্রান্সে বেড়াতে গিয়েছেন আর পা পড়েনি প্যারিসে, তা যেন হওয়ার নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে রোমান্টিক শহরটির নাম তাই প্যারিস। প্যারিসের মতো গোছানো শহর খুব কমই রয়েছে।

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনায় ভীড় লেগেই আছে সিডিনিতে। নজরকাড়া সমুদ্র সৈকত, অপেরা হাউজ এবং খোলামেলা পরিবেশ কাপলদের ভালোবাসাকে আরও রঙিন করে তোলে।

ব্রুজেস, বেলজিয়াম
এ শহরে গেলে নৌকায় চড়ে না এমন জুটি খুঁজে পাওয়াই ভার। প্রচুর পরিমানে পর্যটক সমাগম হয় এখানে। সমুদ্র সৈকত চাড়াও এ শহরে রয়েছে অনেক লেক। লেকের দুধারে রয়েছে সুশৃঙ্খল গাছপালা। প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশ এখানে অন্ত:স্থলের ভালোবাসাকে টেনে বের করে আনে। প্রিয়জনকে নিয়ে আরেকটু ভালো সময় কাটাতে নির্দিধায় ব্রুজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া যায়। প্রাচীন এই শহরটি ক’দিনেই আপন বানিয়ে ফেলে পর্যটকদের।

ফ্লোরেন্স, ইতালি
বহু বছরের পুরনো স্থাপত্ব এবং পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রকর্মের জন্য ইতালির ফ্লোরেন্স শহরটি বিখ্যাত। ছবির মতোই এ শহরটি সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর। শিল্পের প্রতি যদি আপনি একটু মনোযোগী হয়ে থাকেন তবে এ শহরটি আপনাকে ছাড়তেই চাইবেনা। আর শিল্প সমৃদ্ধ শহর মানেইতো রোমান্সের ছড়াছড়ি।

ওয়েলিংটন, নিউজিল্যন্ড
নিউজিল্যান্ড দেশটির পুরোটাই সৌন্দযেূর লীলাভূমি। তবে ওয়েলিংটন স্থান করে নিয়েছে রোমান্টিক শহরের তালিকায়। কারণ এখানে রয়েছে দারুণ সমুদ্র বন্দর। এ ছাড়াও সারা শহরটিতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বোটানিক্যাল গার্ডেন। সুন্দর প্রকৃতি এবং প্রাণী বৈচিত্র সেখানকার প্রধান বৈশিষ্ঠ। এ দুই হলে কাপলদের আর কি লাগে? সবই আছে!

লিসবন, পর্তুগাল
পর্তুগালের লিসবন শহর। লিসবন শহরকে বলা হয় শিল্পী আর লেখকদের তীর্থভূমি। এ শহরে জমায়েত হয় পৃথিবীর বিখ্যাত সব লেখক ও অভিনয়শিল্পী। প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত এই শহর চোখ জুড়িয়ে দেয় পর্যটকদের। এই শহরের চারপাশ দেখলে অনেকেই ভাববেন এ যেন কোনো চিত্রশিল্পীর মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকা কোনো নগরী। এত সুন্দর শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। পরিষ্কার বাতাস, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া আর নিরাপদ শহর এটি। এখানকার রাস্তাগুলোতে হেঁটে ফিরলে নজর কাড়ে রাস্তার দুধারে সীমান্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্য। এই শহরের লাবণ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অনেকেই বলে থাকেন লিসবন গুপ্তরহস্যের শহর।

ভেনিস, ইতালি
ভেনিসকে বলা হয় ভাসমান শহর। কারণ সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্রতিদিনই ডুবে যায় এ শহর। তখন মানুষের যানবাহন হয়ে যায় ছোট ছোট নৌকা! ইতালির এই শহরটির মতো নান্দনিক শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। পুরো শহরটির বুক চিরে বয়ে গেছে স্বচ্ছ জলের প্রবাহ। পরিষ্কার জলের এই লেকগুলো এতটাই স্বচ্ছ যেন গা-ঘেঁষে মাথা উঁচু করে থাকা দালানগুলোর প্রতিবিম্ভ আর আকাশে ছুটে চলা মেঘ যেন নেমে এসেছে পানিতে। এই শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের নৌকা। এসব নৌকায় করে আপনি চলতে পারবেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। এই শহরে নেই কোলাহল, নেই যান্ত্রিক ব্যস্ততা। পর্যটকদের দারুণ পছন্দের এই শহরটি পদচারণায় মুখর থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়। ক্যানেলগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দালানগুলোর নান্দনিক কারুকার্জ এই শহরটিকে করেছে আরও মনোমুগ্ধকর।

ডুব্রভনিক, ক্রোয়েশিয়া
উনিশ শতকের নানা স্থাপত্যে সমৃদ্ধ এই শহর। সমুদ্রের সঙ্গেও এ শহরের দরুণ মিতালি। নিমিষেই মিতালি করে ফেলে এ শহরে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের সঙ্গেও। আর কাপল হলে তো কথাই নেই। স্থাপত্বের আলাদা বৈশিষ্টপূর্ণতা নতুনত্বের স্বাদ দেয়। রোমান্সের জন্য যা কি না অত্যাবশ্যকীয়।

লন্ডন, ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের মুকুট বলা হয় লন্ডন শহরটিকে। এই শহরটিও বেশ গোছানো ও পরিকল্পনামাফিক গড়ে ওঠার কারণে এই শহরের পরিবেশ পৃথিবীর রোমান্টিক সিটি হিসেবে গণ্য করেছে। পৃথিবীর বসবাসযোগ্য, সুস্থ নগরী হিসেবে লন্ডনের তুলনা লন্ডনই হতে পারে। সুপ্রশস্ত রাস্তা, সুন্দর বসবাসের বাড়ি, আইনশৃঙ্খলার নির্ভরযোগ্য পরিবেশ- সবমিলিয়ে লন্ডন হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মেট্রোপলিটন সিটি। নাগরিক কোলাহল থাকলেও এ শহরকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনে করেন প্রেমপিয়াসীরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই শহরে এসে ভিড় করেন সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর জন্য।

কিয়োটো, জাপান
জাপানের কিয়োটো শহরটি অত্যন্ত শান্ত এবং মনোরম। এটি একটি ঐতিহাসিক শহরও। বসন্তকালে এই শহরে ফোটে চেরি ফুল। সে ফুলের সৌরভ এবং সৌন্দর্য্যে কাপল’রা মাতাল অনুভূতি লাভ করে এবং একে অপরের ভালোবাসায় বিলীন হতে চায়। মধু চন্দ্রিমায় অনেকেই এই শহরটাকেই বেছে নেন।