সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফুরিয়ে যাচ্ছে জল, ‘টাইম বোমা’ হচ্ছে পৃথিবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৮ জানুয়ারী ২০১৯

/ ফিচার
-ফাইল ছবি

বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। উষ্ণায়নের ফলে দ্রুত বদলে যেতে চলেছে আমাদের বসবাসযোগ্য এ পৃথিবী। একসময় টাইম বোমার মতই ভয়াবহ অবস্থার ধারণ করতে পারে এই বিশ্ব। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা এমনটাই মনে করছেন।

ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের সবকিছুতেই এর প্রত্যক্ষ প্রভাব প্রকট। এটা যে উদ্বেগজনক তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু যা নতুন, তা হল আজকের এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবমুক্ত মাটির তলার জলভাগ।

আবহাওয়া বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এখনকার মতো ভূগর্ভস্থ জলতলে কোনও প্রত্যক্ষ প্রভাব না পড়লেও, কয়েক দশক পর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৃথিবীর এই অংশ। ভবিষ্যতে ‘টাইম বোমা’র মতোই ভয়ংকর হতে চলেছে আবহাওয়া বদলের আজকের প্রভাব। এর ফল ভুগতে হবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের অভিশাপ টের পেতে শুরু করার পর দূরদর্শীদের অনেকের আশঙ্কা, একদিন জলের জন্য বেঁধে যেতে পারে বিশ্বযুদ্ধ। সেই আশঙ্কা যে সত্যি হয়ে যেতেই পারে, সম্প্রতি আবহাওয়াবিদের গবেষণায় তেমন ইঙ্গিত মিলছে।

ব্রিটেনের ওয়েলসের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানের একদল গবেষক এনিয়ে বেশ কয়েকমাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য প্রফেসর মার্ক কাথবার্টের কথায়, ‘ভূগর্ভস্থ জল যেহেতু নজরের বাইরে, তাই এনিয়ে আমরা ভাবি না। কিন্তু যা আমাদের ভাবনা বাইরে, সেটাই পৃথিবীর উৎপাদন শক্তির অনেক বড় একটি উৎস্য। এর বদলকে পরিবেশের ওপর টাইম বোমার আক্রমণ হিসেবে আমরা দেখছি। কারণ, আবহাওয়া বদলের যেটুকু প্রভাব এখন আমরা দেখছি, ভবিষ্যতে তার আসল প্রভাব দেখব বিভিন্ন নদী এবং জলাভূমির চরিত্র বদলে। আর এসব শুকিয়ে গেলে, মানুষের জীবন ধারণের আর কোনও উপায় হাতে থাকবে না। আগামী ১০০ বছরের মধ্যেই সেই দুঃসময় আসছে।’

কোন এলাকার জলভাগ কীভাবে আবহাওয়া বদলের সঙ্গে পরিবর্তিত হবে, তাও উঠে এসেছে কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায়। সেখানেও চমক। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেসব এলাকা খরাপ্রবণ, মরু অঞ্চল, সেখানকার জলভাগ পরিবর্তনের জন্য তুলনায় কিছুটা বেশি সময় নেবে।

উদাহরণ হিসেবে তারা তুলে ধরেছেন সাহারা মরুভূমির কথা। বলা হচ্ছে, সাহারার নিচে যে জলতল আছে, তার ওপর আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে অন্তত ১০ হাজার বছর পর। বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের ওপরও নির্ভর করছে কোন ভূমি কতটা জল ধরে রাখতে পারে। গবেষণালব্ধ এসব বিষয় থেকে তারা সমাধানের পথে এগোতে চান।

বিজ্ঞানীদের পরামর্শ, যেহেতু মাটির তলার জল পৃথিবীতে জীবনধারণের একটি অন্যতম উৎস্য, তাই তাকে সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এখন থেকেই সেই কাজ শুরু করা দরকার। তাহলেই হয়ত ভবিষ্যত প্রজন্ম আরও কয়েকটা দিন নিশ্চিন্তে কাটাতে পারবে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন