সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কিডনি সমস্যা : কীভাবে বুঝবেন, কী করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৫ জুলাই ২০১৮

/ ফিচার

কিডনি ডিজিজ : কোনো কারণে যখন কিডনি খুব দ্রুত তার কার্যকারিতা হারায়, যেমন রক্তের ইনফেকশন বা সেপ্টিসেমিয়া, মূত্রাশয়ের অসুখ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিষাক্ত পদার্থ ইত্যাদি, দ্রুত চিকিৎসা ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়।

 

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনির অকার্যকারিতাকে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বলে। এর আসল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত মোটা হওয়া বা স্থূলতা ইত্যাদি। মোটামুটি বছরখানেক সময় নিয়ে লক্ষণগুলো প্রকাশ হয়। যেমন, কিডনির ইনফ্লামেশন অথবা পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ। বেশিরভাগ সময় কিডনি ফেইল হওয়ার শেষ মুহূর্তে লক্ষণগুলো বুঝতে পারা যায়। চিকিৎসার মাধ্যমে কিডনি আগের অবস্থায় আনা কঠিন।

 

লক্ষণ : কিডনি ফেইলিউরের সময় শরীরের বিভিন্ন বর্জ পদার্থ এবং তরল পদার্থ কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হতে পারে না। এর ফলে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। যেমন- খাদ্যে অরুচি, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি ও অবসাদ, শুকনো ও খসখসে চামড়া, মাংসপেশিতে টান লাগা, ঘুম না হওয়া, প্রস্রাবে স্বল্পতা, ফোলা চোখ, শ্বসনতন্ত্রে বা ফুসফুসে পানি, শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপ।

 

যতদিনে কিডনি রোগ শনাক্ত করা হয়, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই কিডনি রোগকে নীরব ঘাতক বলা হয়। বিশ্ব কিডনি দিবসে নিচের অভ্যাসগুলোকে কিডনিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার উপায় হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে :          

১. নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ফিট আর অ্যাকটিভ থাকা দরকার।

২. রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা, বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত, তাদের নিয়মিত রক্তের সুগার মনিটর করা দরকার।

৩. আমরা সবাই উচ্চ রক্তচাপের ফলে হূদরোগ হয় এটা জানি। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে এটা অনেকেই জানেন না। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এতে আপনার ওজন যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তেমনি হূদরোগ ও কিডনি ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। প্রতিদিন এক চা চামচের বেশি লবণের কোনো দরকার নেই। বাইরের খাবার, ফাস্টফুড, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস এসবে প্রচুর লবণ থাকে। তাই ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত এবং রান্না করার সময় লবণের ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে, যাতে জনপ্রতি এক চা চামচের বেশি লবণ খাওয়া না হয়।

৫. প্রতিদিন দুই-তিন লিটার পানি (৮-১২ গ্লাস) পান করা উচিত। পানি পান করলে কিডনি থেকে সোডিয়াম, ইউরিয়া ও অনেক বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। পানি পান করলে কিডনিতে সহজে পাথর হতে পারে না।

৬. ওভার দা কাউন্টার ড্রাগ যেমন প্যারাসিটামল, এসপিরিন, গ্যাসের ওষুষধ এসব নিয়মিত খেলে কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। এসব ওষুধ শুধু জরুরি প্রয়োজনে যাদের কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে, তাদের জন্য প্রযোজ্য।

৭. যাদের উল্লেখিত সমস্যাগুলো আছে, তাদের উচিত নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করা : ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত মোটা মানুষ, যাদের বংশে কিডনি সমস্যা আছে।

৮. ধূমপান সম্পূর্ণ নিষেধ।

 

কিডনি রোগীর নিষিদ্ধ খাবার : কিডনি রোগীর চিকিৎসায় পথ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ডায়ালাইসিস চলার সময় উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়। কিন্তু অন্য সময় কিডনি রোগীদের প্রোটিন (মাছ, মাংস ইত্যাদি) কম খেতে বলা হয়। বিশেষত দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন যেমন ডাল, বাদাম, বীজ ইত্যাদি খাবার কম খেতে বলা হয়। এতে কিডনির ওপর চাপ কমে। তবে এক্ষেত্রে বোঝার ব্যাপার হচ্ছে, যাদের কিডনিতে কোনো সমস্যা নেই, তাদের এসব খাবার খেলে কিডনিতে কোনো সমস্যা হবে না।

দুধের ক্ষেত্রে নন-ফ্যাট বা সর তোলা দুধ খাওয়া যেতে পারে। সবজির ক্ষেত্রে কচু, গাজর, বিট, টমেটো, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, পালংশাক, মুলাশাক, বরবটি, মটরশুটি খাওয়া উচিত নয়। তবে একান্তই খেতে চাইলে গরম পানিতে ২০-২৫ মিনিট ফুটিয়ে পানি ফেলে রান্না করে খেতে হবে। ফলের ক্ষেত্রে আপেল, পেঁপে, আনারস, নাশপাতি, পেয়ারা বাদে অন্য ফলগুলো সীমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে।