বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বায়ুদূষণে দিল্লিকে ছাড়িয়ে এক নম্বরে ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯

/ জলবায়ু পরিবেশ

বায়ুদূষণে বিপজ্জনক সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে রাজধানী ঢাকা। দিল্লিকেও ছাড়িয়ে গেছে এই দূষণ। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও খারাপ পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বায়ুর গুণমান যাচাইকারী সবচেয়ে বড়ো ডাটাবেইস এয়ার ভিজ্যুয়ালের প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুমান এখন ২৪২। যার অর্থ, ঢাকায় বাতাসের মান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।

গত দুই মাসে মাত্র ১৯ ঘণ্টা ভালো বায়ু সেবন করেছে রাজধানীবাসী। ইউএস এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (ইউএস একিউআই) অনুসারে র‌্যাংকিং করে এয়ার ভিজ্যুয়াল। এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা পিএম ২ দশমিক ৫-এর মাত্রাকে। বাতাসে ২ দশমিক ৫ মাইক্রনের ছোট দূষিত বস্তুকণার উপস্থিতি পরিবেশে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। মানুষের শ্বাস প্রক্রিয়া আক্রান্ত করে মৃত্যু ঝুঁকি সৃষ্টি করছে পিএম ২ দশমিক ৫। বিশ্বের দূষিত শহরগুলোতে মানুষের আয়ু হ্রাস, মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ এ ক্ষতিকর ধূলিকণা।

বায়ুদূষণে ঢাকার পরই রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও মঙ্গোলিয়ার উলানবাটোর শহরের অবস্থান। এর মধ্যে দিল্লির স্কোর ২১১, লাহোর ও উলানবাটোরের ১৯৮। যখন কোনো শহরে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তখন ঐ এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় বলে জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা অন্য দেশগুলো হচ্ছে—আফগানিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, নেপাল, আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন গতকাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকা সিটিতে বায়ুদূষণের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। অবস্থা সংকটাপন্ন। গতকাল সোমবার বিকালে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মন্ত্রী বলেন, মূলত তিন কারণে ঢাকাসহ সারাদেশে বায়ুদূষণের অসহনীয় মাত্রা বাড়ছে। সেগুলো হলো—ইটভাটা, মোটরযানের কালো ধোঁয়া এবং যথেচ্ছ নির্মাণকাজ।

এয়ার ভিজ্যুয়াল জানাচ্ছে, বায়ুদূষণ এখন স্বাস্থ্যের জন্য সর্বাধিক পরিবেশগত ঝুঁকি। এর ফলে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে। অকালমৃত্যুর জন্য বায়ুদূষণ এখন বিশ্বের চতুর্থ কারণ। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে খরচ হচ্ছে—আড়াইশ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো প্রভাব ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, বায়ুতে যেসব ক্ষতিকর উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক পিএম ২ দশমিক ৫ উপাদান সবচেয়ে বেশি নির্গত করত চীন। গত দুই বছরে চীনকে টপকে ঐ দূষণকারী স্থানটি দখল করে নেয় ভারত।

এখন ভারতকে টপকে এক নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও শহর। প্রতিবেদনটিতে মূলত কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ুদূষণের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

এ ব্যাপারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়াতে হবে। ইটভাটাগুলো দ্রুত আধুনিকায়ন করতে হবে। নির্মাণকাজে যাতে ধুলা কম হয়, সে জন্য দেশের প্রচলিত আইন মানলেই যথেষ্ট। কিন্তু তা মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তদারকির ঘাটতি রয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ঢাকা সিটিতে বায়ুদূষণের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সরকারি বেসরকারি অবকাঠামো ও বিভিন্ন কাজে সমন্বয় করা প্রয়োজন। ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এলিভেটেট এক্সপ্রেস-হাইওয়েসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।