বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জীবন্ত এক ক্যামেরার নাম হেলাল শাহ

ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯

/ শিল্প সাহিত্য

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনঃ

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাসছে এক নাম এবং তার অঙ্কিত ছবি। ছবিটি  কোনো ডিএসএলআর ক্যামেরায় তোলা ছবি নয়, আর যারা সে ছবিটি দেখছে তারা ভাবতেই পারছে না এতো সুন্দর কোনো ছবি ডিএসএলআর ক্যামেরায়ও তোলা যায় কি? তবে এর চেয়েও অবাক কান্ড হলো এটি কোনো ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিও নয়। নিঁখুত-নিপুন হাতে এ ছবি এঁকে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন জীবন্ত এক নিখুঁত ক্যামেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল শাহ।

আর এমন জীবন্ত ছবিটি হলো পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজারের।  নিত্যদিনের কার্যক্রমে ব্যস্ত শাঁখারিবাজার যেরূপে সাঁজে-যেভাবে থাকে, ঠিক সেভাবেই অঙ্কিত হয়েছে ছবিটি। তাই তো পেইন্টিং এন্ড ড্রয়িং এর বর্ষ সেরা ছবির খেতাবও মিলেছে ছবিটির। এছাড়া ছবিটি বেস্ট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডও লাভ করেছে।

জীবন্ত এই ক্যামেরা পুরুষ হেলাল শাহ শাঁখারি বাজার নিয়ে আরও একটি জীবন্ত ছবি এঁকেছেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুধু তাই নয়  ২০১৮ সালে ঢাকার সদর ঘাটের ছবি এঁকেও পেয়েছিলেন বর্ষ সেরা ছবির খেতাব। পেয়েছিলেন বেস্ট মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড।

রং তুলি হাতে নিয়ে ঢাকার সদরঘাটের লঞ্চ ও বুড়িগঙ্গার চিরাচেনা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেন তার ছবিটিতে। এটি দেখলে হঠাৎ মনের গভীরে প্রশ্ন জন্মায় এতো নিখুঁত ছবি মানুষ হাতে কিভাবে আঁকে?

পুরান ঢাকা ও কেরানীগঞ্জের মাঝখান দিয়ে   বুড়িগঙ্গা নদী। ব্যস্ততম এই স্থানটি প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়। এখানে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সাথে নদীপথে যাতায়াতের জন্য লঞ্চ-স্টিমার, যা যেকোনো দর্শকের মন কাড়ে। আর সদরঘাটের এই নিত্য পরিচিত মনোরম দৃশ্য খুবই যত্নের সহিত রং তুলিতে এঁকেছেন হেলাল শাহ।

এক সাক্ষাৎকারে হেলাল শাহ বলেন, ‘চিত্র আঁকা আমার নেশা। এর মধ্যে আমি আমার প্রাণ খুঁজে পাই। ভবিষ্যতে এটি নিয়ে আরও কাজ করতে চাই।’


মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়