মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাবরি মসজিদ ভাঙার রায়ের পর যা বললেন মোদী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৯ নভেম্বর ২০১৯

/ আন্তর্জাতিক

ভারতের বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির নিয়ে করা মামলার রায় এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে বাবরি মসজিদের বিরোধপূর্ণ জমি রামজন্মভূমি ট্রাস্টকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। সেক্ষেত্রে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণে আলাদা বিকল্প কোনো জমি বরাদ্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এই রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয় খবর ‘এনডিটিভি’। এ দিকে রায় ঘোষণার পর টুইট বার্তায় বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছিলেন, ‘অযোধ্য ইস্যুতে রায় দিয়েছেন মাননীয় আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে কোনো পক্ষেরই জয় কিংবা পরাজয় হয়নি।’

মোদীর ভাষায়, ‘রাম ভক্তি হোক কিংবা রহিম ভক্তি, অত্যাবশ্যক বিষয় হলো- আমরা রাষ্ট্রভক্তির চেতনায় আরও বেশি শক্তিশালী হব। আপনারা শান্তি ও সম্প্রতি বজায় রাখুন।’

অপর দিকে রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘এই রায় সম্পূর্ণ ঐক্যমত্যের একটি রায়। তবে মসজিদের নিচে ঠিক কোন স্থাপনা ছিল এখনো তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি অর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।’

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, কোনো ফাঁকা জায়গায় মসজিদ তৈরি হয়নি। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে এখানে শেষবার নমাজ হয়েছিল। সেক্ষেত্রে বিকল্প জমি পাবে মুসলিমরা। এমনকি শর্তসাপেক্ষে হিন্দুদেরও মূল বিতর্কিত অংশ থেকে জমি দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের একটি যৌথ বেঞ্চ অযোধ্যা জমি বিতর্কের শুনানি সম্পন্ন করেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সে সময় আর রায় ঘোষণা করা হয়নি।

যদিও তখন থেকেই গুঞ্জন উঠছিল আগামী ১৭ নভেম্বর অবসরে যেতে পারেন রঞ্জন গগৈ। যে কারণে এর আগেই যে কোনো দিন ঐতিহাসিক এই মামলাটির রায় হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। মূলত এসব বিষয় বিবেচনা করেই অতি স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রশাসন।

গত শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান বিচারপতি গগৈ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এমনকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও তার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত সেই বৈঠকেই গগৈ অন্য বিচারকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অযোধ্যা মামলায় রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন।

রায় ঘোষণার পর উত্তরপ্রদেশসহ গোটা ভারতে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য এরই মধ্যে গোটা দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব রাজ্যে বিশেষ সতর্কতাও জারি করতে বলা হয়েছে।