মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সিলেটের মাধবকুন্ডে মরছে জলজপ্রাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৭ নভেম্বর ২০১৯

/ জলবায়ু পরিবেশ

খালেদ মাছুম সিলেট ব্যুরো :

জলপ্রপাতের পর্যটন, মাধবকুন্ডে জলপ্রপাতে বুনোবিষের কারণে মরেছে জলজপ্রাণী। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার জীববৈচিত্র্য। সেই ঝরনার তলদেশে বুনোবিষ প্রয়োগ করে একশ্রেণীর অসাধু মাছশিকারি মাছসহ জলজপ্রাণী শিকার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি পাথারিয়া পাহারের মাধবকুন্ড ঝরনায় বনখেকো দুষ্কৃতিকারীরা ক্ষতিকর বিষ প্রয়োগ করে। এতে মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজপ্রাণী মরে ভেসে ওঠে। যার দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
মাধবকুন্ডে বেড়াতে আসা পর্যটকরা এসব মরা জলজপ্রাণী ভেসে ওঠা দৃশ্য দেখে অবাক হন। তবে স্থানীয়রা মৃতপ্রায় মাছগুলোকে পানি থেকে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পাথারিয়া পাহাড়ের উপর দিয়ে বয়ে চলা বিভিন্ন খালে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা বিষ প্রয়োগ করে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজপ্রাণী শিকার করে চড়ামূল্যে বিক্রি করে। তার মধ্যে কাটুয়া, কুঁচিয়া অন্যতম। চোরাকারবারীরা এসব অবৈধ কাজ দীর্ঘদিন থেকে করে এলেও বনবিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কুলাউড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবং বড়লেখা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, মাধবকুন্ডে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনাটি ‘বিষলতা’ নামক বুনো লতাগুলোর কারণে হতে পারে। কেউ মাছ শিকারের জন্য বিষলতার ডাল ছিঁড়ে পিষে এর রস পানিতে মিশিয়ে থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘কিছু কিছু মাছ শিকারি আছে যারা এভাবে মাছ শিকার করে থাকে। ঝরনার উপরেও দিতে পারে বা নিচেও দিতে পারে। ঝরনার উপর নিচ সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। তবে কোথাও না কোথাও তারা এ বিষলতা পানিতে মিশিয়েছে।’
‘বিষ’ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষ দুই রকম আছে। একটি রাসায়নিক বিষ অপরটি প্রাকৃতিক বিষ। এখানে আমাদের ধারণা প্রাকৃতিক বিষ পানিতে মেশানো হয়েছে। রাসায়নিক বিষ দিলে মাছ, কাঁকড়াসহ সব জলজপ্রাণী একত্রে মরে না। বাইম, টাকি মাছ, কাঁকড়াসহ অন্যান্য জলজপ্রাণী মরে না। তবে প্রাকৃতিক বিষ ‘বিষলতা’ দিলে সব মরে শেষ হয়ে যায়। এখানে এটা হয়েছে। তবে পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে পানির মান স্বাভাবিক আছে। পানিতে কোনো সমস্যা নেই। পানিতে রাসায়নিক জাতীয় বিষ পাওয়া যায়নি বলে জানান সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।