মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

গৌরবের ‘সাবাস বাংলাদেশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ৩ নভেম্বর ২০১৯

/ ফিচার

২৪ বছর শোষণ- বঞ্চনা, ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারুণ্যের জয়-বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত  বাংলার আকাশÑ বাতাস। স্মৃতিমাখা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে তরুণদের আত্মত্যাগের গল্প।  জাতির গৌরবোজ্জল স্মৃতি নিয়ে নির্মিত “সাবাশ বাংলাদেশ” নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন: মো.উমর ফারুক,
 ছবি তুলেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন
   
“সাবাস বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।” সুকান্ত দা হয়ত তারুণ্যের অদম্য সাহসিকতার কথাগুলো জানান দিয়েছেন কবিতায়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টি ছয়দফা, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সর্বশেষ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তারুণ্যের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস। এ দেশের তরুণরা প্রমাণ দিয়েছিলো জাতি কখনও মাথা নোয়াবার নয়। বুকে অকতোভয় সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে কখনও কুন্ঠাবোধ করেনা। তাইতো তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমাখা দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিতে দেশের বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পি নিতুন কুন্ডু হাতে নির্মিত হয়েছে “সাবাশ বাংলাদেশ”। দিনটি ১০ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯২। বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজউদ্দীন আহমেদ সিনেট ভবন চত্বরে নির্মিত ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। মূল ভাস্কর্যের দুজন যুবককে খালি গাঁয়ে ৪০ ফুট বেদির উপরে উপস্থাপন করা হয়েছে। একহাতে রাইফেল ধরা মুষ্টিবদ্ধ দৃঢপ্রতিজ্ঞ, অন্য হাতে উপরে উথিত লুঙ্গিপড়া ব্যক্তিটি মাথায় গামছা বেঁধে গ্রামীণ যুবা ও কৃষক শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করছে। প্যান্ট পড়া অন্যজন প্রতিনিধিত্ব করছে শহরে যুবাদের। তাঁর দুহাতে রয়েছে রাইফেল, কোমড়ে গামছা বাঁধা, বাতাসে পেছনে উড়ে গেছে চুলগুলো। সিঁড়ি উপরের মঞ্চের ঠিক পিছনের দেয়ালের গাঁয়ে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সমাজের সকল মানুষের মিছিলের দৃশ্যকে ধারণ করা হয়েছে। রাইফেল হাতে যুবক-যুবতী, একতারা হাতে বাউল, গেঞ্জি পড়া এক কিশোর তাকিয়ে আছে পতাকার দিকে। মূলত বাংলার জনজীবনে এক জ্বলন্ত ছবি একেছেন শিল্পি নিতুন কুন্ডু। তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধে গণমানুষের সম্পৃক্ততার কথা। মূল ভার্স্কযের পশ্চাতে রয়েছে ৩৬ ফুট উঁচু একটি স্তম্ভ; যার ভেতরে ৫ ফুট ব্যাসের গোলাকার শূন্যতা যা উপস্থাপন করা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার প্রতীক হিসেবে। এ ভাস্কর্যের মুক্তিযোদ্ধাদ্বয় সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য রূপ, লড়াইয়ের দৃঢ়তা, প্রতিশোধ প্রচন্ড স্পৃহা আর বিজয়ের নেশায় মত্ত। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ কবিতার নামানুসারে নাম করণ করা হয়েছে এই “সাবাশ বাংলাদেশ” ভাস্কর্য। যা বাঙ্গালী জাতির মুক্তিযুদ্ধ কালীন তেজস্বী ভূমিকাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাঙ্গালির দৃঢ় মনোবল, মুক্তির প্রচন্ড স্পৃহা, সীমাহীন কষ্ট, অসীম ত্যাগের বিনিময়ে ভস্মাবশেষ থেকেই উদ্ভব হয়েছে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখন্ডের। বাঙ্গালী জাতির বীরত্বগাথাঁ ইতিহাসের স্মৃতি “সাবাশ বাংলাদেশ” তরুণ প্রজন্মকে অকতোভয় সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।