সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জানলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে সম্মান দিতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯

/ চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনাটি জানতাম না, বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে চলে আসার সময় বিমানবন্দরে বিষয়টি জানতে পেরেছি, আগে জানলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে অবশ্যই তাঁকে সেই সম্মান দিতাম।

অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামে গতকাল আওয়ামী লীগের দলীয় এক অনুষ্ঠানে প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনকে বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। এ নিয়ে সেখানকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক ভবনে একটা প্রোগ্রাম ছিল, সেখান থেকে আমি প্রতিনিধি সম্মেলনে যখন যোগ দিয়েছি আনুমানিক সাড়ে ১২টা। ওখানে কোনো কমোশন (গোলমাল) আমি দেখিনি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা কেউ আমাকে জানায়নি। আমি ঢাকার পথে যখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাই, তখন ওই বিষয়টা একজন আমাকে জানালো। কিন্তু ওখানে কেউ এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলেনি এবং কোনো অভিযোগও কোনো পক্ষ থেকে আসেনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মেয়রকে জিজ্ঞাসা করেছি, তার যে বক্তব্য সেটা হচ্ছে- ওখানে হোস্ট (আয়োজক) তিনটি জেলা, মহানগর এবং চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ। এই তিন জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকেরা বৈঠক করে মঞ্চে কারা কারা বসবেন এবং কোন ক্যাটাগরিতে বসবেন, সেটা নির্ধারণ করেছেন তারা। তাদের সেই নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে তিনি (হাসিনা মহিউদ্দিন) ছিলেন না। তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের নগরের প্রেসিডেন্ট। এই ক্যাটাগরির কেউ বসেনি। মেয়র আমাকে সেই কথা জানান।

‘কিন্তু আমি যদি জানতাম, তাহলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে আমি তাকে সম্মানটা দিতাম। আমি জানতাম না। তিনি মঞ্চে বসতে চাইলে অবশ্যই তাকে আমি অ্যালাও করতাম। বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না। যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় নরসিংদীর সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নুসরাত তামান্না ওরফে বুবলীর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। বলেন, দলের পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হবে। তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

সাংসদ নুসরাত তামান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ প্রোগ্রামের পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু তাঁর হয়ে অন্যরা পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় ধরা পড়ার পর তাঁর সব পরীক্ষা ও নিবন্ধন বাতিল করেছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, চলমান শুদ্ধি অভিযান দলের পাশাপাশি অন্যান্য সেক্টরেও হচ্ছে এবং হবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, দলে যেমন নজরদারি আছে, তেমনি প্রশাসনেও নজরদারি আছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তা যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। চলমান শুদ্ধি অভিযানে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।