মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

প্রতারণার শিকার শিক্ষকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯

/ আইন আদালত

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত তরুন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতারণার শিকার ৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী ডোনেশন বাবদ দেওয়া ১১ লাখ এবং ৪ বছরের বেতন-ভাতার সাড়ে ১৩ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতে মামলা করেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে তরুন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সহকারি শিক্ষক আব্দুল মজিদ মিয়া বাদি হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা করে। মামলায় বিবরণে জানা যায়,বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম মজনু, প্রকল্প পরিচালক মোর্শেদ আলম কমল এবং ভাইস চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলা আমলে নিয়ে গাইবান্ধা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়,২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর ফাউন্ডেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি ঘগোয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম মজনু মিয়া পরিচালিত তরুন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের একই গ্রামের ইলিয়াস মিয়াকে প্রধান শিক্ষক, আব্দুল মজিদ মিয়া, নুরুল ইসলাম, আরিফা বেগম ও নাজমুল ইসলামকে সহকারি শিক্ষক এবং মনোয়ারা বেগমকে পিয়ন পদে নিয়োগ প্রদান করে। কয়েকজন সুধীজনের মোকাবেলায় ৬ জনের নিকট থেকে ডোনেশন বাবদ ১১ লাখ টাকা গ্রহণ করে সাইফুল ইসলাম। নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পর তারা ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারী তরুন প্রি-ক্যাডেট স্কুলে যোগদান করার যোগদান করে। শিক্ষক-কর্মচারিগণ চাকরি করে আসছে। দীর্ঘদিন যাবৎ কোন প্রকার বেতন ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষক কর্মচারিগণ সাইফুলকে কয়েক দফা চাপ প্রয়োগ করলে তিনি বলেন সংস্থা টাকা দিলে একবারে আপনারা বেতন ভাতা পারেন। এক পর্যায়ে শিক্ষক কর্মচারিগণ ফাউন্ডেশনের ঢাকার অফিস মধ্য বাড্ডায় যোগাযোগ করে দেখতে পায় এ নামে কোন ফাউন্ডেশন নাই এবং প্রকল্প পরিচালক মোর্শেদ আলম কমল নামের ব্যক্তি সেখানে থাকে না। বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারিগণের বেতন ভাতা বাবদ টাকার পরিমাণ দাড়িয়েছে সাড়ে ১৩ লাখ। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে শিক্ষক কর্মচারিগণ মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম মজনু বলেন ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালকের কথা মোতাবেক শিক্ষক কর্মচারিদের নিকট থেকে ডোনেশনের টাকা নিয়ে তাকে দিয়েছি। মামলার বাদী ও সহকারি শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন বেতন ভাতাসহ ডোনেশনের টাকার জন্য সাইফুলকে বার বার চাপ প্রয়োগ করলে তিনি টাকা দেয়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার হারুন-উর রশিদ বলেন বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত তরুন প্রি-ক্যাডেট স্কুল নামে কোন প্রতিষ্ঠানের তথ্য তাঁর অফিসে নেই।