মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শুরু হয়েছে সবজি ক্ষেত থেকে, শীতকালিন সবজি তোলার আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯

/ কৃষি
-ফাইল ছবি

সবজিতে ভরে গেছে মাঠ। খেত থেকে ভাঁড়ারে করে সেই সবজি তুলছেন কিষান-কিষানি। গত সোমবার ঠাকুরগাঁও সদরের বড়দ্বেশ্বরী গ্রামে। প্রথম আলোসবজিতে ভরে গেছে মাঠ। খেত থেকে ভাঁড়ারে করে সেই সবজি তুলছেন কিষান-কিষানি। গত সোমবার ঠাকুরগাঁও সদরের বড়দ্বেশ্বরী গ্রামে। প্রথম আলোঠাকুরগাঁওয়ের মাঠজুড়ে এখন সবজি আর সবজি। ফুল ও বাঁধাকপি, মুলা, করলা, বেগুনসহ নানা তরিতরকারি। খেত থেকে তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন কৃষক-শ্রমিকেরা। সেখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারেরা। ট্রাকে করে এ সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। কৃষকেরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা একটু আগেভাগে শীতের সবজির চাষ শুরু করেন। এবার অনেক কৃষক সবজি আবাদ করছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। এখন সবজিতে বাজার ভরে গেছে। উদ্বৃত্ত সবজি যাচ্ছে বাইরের জেলায়, এমনকি বিদেশেও।

সবজি থেকে শুধু কৃষকেরাই লাভবান হচ্ছেন, তা নয়। এলাকার অনেক নারীও নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে বড়দ্বেশ্বরী গ্রামের মাহমুদা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় নিয়মিত কাজ ছিল না। এখন সবজি খেতে সারা বছরই কাজ পাওয়া যায়। এতে তাঁর সংসার খরচ স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়। গত কয়েক দিন সদর উপজেলার বড়দেশ্বরী, পাটিয়াডাঙ্গী, আকচা, গড়েয়া ও নারগুন এবং রানীশংকৈলের রাউতনগর, নেকমরদসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেতে নানা জাতের শাকসবজি। কৃষক ও শ্রমিকেরা খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকে পাইকারেরা নগদ টাকায় তা কিনে নিচ্ছেন। পরে তাঁরা সেগুলো ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

সদর উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী ১৪ বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে করলা, লাউ, শসা ও বেগুনের আবাদ করেছেন। কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চাহিদা একটু বেশি। এ মৌসুমে সবজি চাষ করে তাঁর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে আয় হয়েছে। তাঁর উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এজেন্সির মাধ্যমে ইংল্যান্ড, দুবাই, বাহরাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, হংকংসহ ১০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের রজনীকান্ত রায় বলেন, ‘এ বছর এক একর জমিতে লাল ও নাপাশাক লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছি। খেতে যে পরিমাণ শাক আছে, তা বিক্রি করে কমপক্ষে আরও লাখখানেক টাকা পাওয়া যাবে।’

রানীশংকৈলের রাউতনগর গ্রামে সড়কের পাশে ফুলকপি ও বেগুন কিনছিলেন ঢাকা থেকে আসা পাইকার আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি ঢাকার শ্যামবাজারের সবজির দর জেনে নেন। এরপর ওই দামের চেয়ে কিছুটা কমে খেতের পাশ থেকে সবজি কিনে নেন। এতে সবজি পরিবহনের খরচ ও লাভের টাকা উঠে যায়। তিনি আরও জানান, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। শ্যামবাজারে এক ট্রাক ফুলকপি বিক্রি করে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হাতে থাকে। এ উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মাইকেল টুডু লাখ দু-এক টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। উৎপাদিত ফসল খেত থেকে বিক্রি করেই পেয়েছেন চার লাখ টাকার ওপরে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেট্রিক টন। জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, এ জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে শুধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নয়, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।