মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

দেশে উৎপাদিত ধান সংরক্ষণে ২শ সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২ অক্টোবর ২০১৯

/ কৃষি

 দেশে উৎপাদিত ধান সংরক্ষণে সরকার ২শ প্যাডি সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ওসব সাইলোতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে মজুত করা হবে। প্রতিটি সাইলোর ধারণক্ষমতা ৫ হাজার টন। ওই হিসাবে নির্মিত সাইলোগুলোতে মোট ১০ লাখ টন ধান সংরক্ষণ করা যাবে। প্রাথমিকভাবে প্যাডি সাইলো নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। সারাদেশে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের পাশাপাশি যেসব এলাকায় ধান উৎপাদন বেশি হয়, সাইলো নির্মাণে সেসব এলাকাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। ওসব সাইলোতে দুই বছর পর্যন্ত ধান সংরক্ষণ করা যাবে। তাতে ধানের মানের কোনো হেরফের হবে না। খাদ্য অধিদফতর সংশ্লিদেশে উৎপাদিত ধান সংরক্ষণে ২শ সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ
ষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ধানের আর্দ্রতার সমস্যা, পর্যাপ্ত গুদামের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা যায় না। অথচ কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য দিতেই সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে প্রতি বছর ধান-চাল সংগ্রহ করে। কিন্তু কৃষকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ধান কিনতে না পারায় প্রান্তিক কৃষকেরা এর কোনো সুফল পায় না। বিগত কয়েক বছর ধরেই কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এবার বোরো মৌসুমেও প্রতি মণ ধানে একজন প্রান্তিক কৃষককে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হয়েছে। দেশের অনেক জায়গায় কৃষক জমির ধান না কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি হতাশ অনেক কৃষক ধান ছেড়ে অন্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছে।
সূত্র জানায়, দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফসল ফলায়। তারা ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তা বিক্রি করে দেয়। ওই সময় যদি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে তারা একদম পথে বসে যায়। অথচ সরকার প্রতি বছর অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আমন ও বোরো মৌসুমে যে পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহ করে, তা মোট উৎপাদনের তুলনায় খুবই কম। বর্তমানে দেশে প্রতি বছর সাড়ে ৩ কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়। সেখানে ১৫ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করলে বাজারে কোনো প্রভাব পড়ে না। এ অবস্থায় প্রান্তিক কৃষককে ধানের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকারিভাবে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কিন্তু সরকারের গুদামে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের ধারণক্ষমতা রয়েছে। এ অবস্থায় গুদামের পরিমাণ না বাড়ালে সংগ্রহের পরিমাণও বাড়ানো যাবে না।
সূত্র আরো জানায়, সরকারের ধান-চাল কেনার প্রধান উদ্দেশ্যই হলো ক্ষুদ্র কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার যে পরিমাণ ধান-চাল কেনে এবং যে প্রক্রিয়ায় কেনে, তাতে তা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে খাদ্যশস্য কেনার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জানান, প্রান্তিক কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই ২০০ পেডি সাইলো নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ওই প্যাডি সাইলোগুলো নির্মাণ হলে তখন অনেক বেশি পরিমাণ ধান কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা যাবে। তাতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ওই সাইলো নির্মাণের ফলে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ২৫-২৬ শতাংশ আর্দ্রতাযুক্ত ধানও কিনতে পারবে। ওই ধান সংরক্ষণে কোনো সমস্যা হবে না। এখন সাইলো নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করা যায় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই প্রকল্প পাশ হবে।