মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

গাইবান্ধায় মাটির খেলনা তৈরীতে ব্যস্ত পালপাড়ার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

/ ফিচার

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

আসন্ন শারদীয়া দুর্গোৎসব কেন্দ্র করে গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ি উপজেলার সবত্র নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য প্রতিটি পাল পাড়ায় চলছে মাটির জিনিসপত্র (খেলনা) তৈরীর ধুম। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী পালপাড়ার বাসিন্দা অনিতা রানী পাল দীর্ঘদিন ধরে মাটির জিনিসপত্র ও খেলনা তৈরি করে আসছেন। বাপ দাদার পেশা। অনেক দিন ধরেই তৈরি ও বিক্রি করছেন। ভালো লাগে মাটিতে রং লাগিয়ে হাতির রূপ দেয়া। কিন্তু সেই থেকে কাজ আর কাজ। ভাগ্যের সামান্য উন্নতিও করতে পারেনি । ৪০ বছরে টিনের ছাপড়া হয়েছে চৌচালা টিনের ঘর।

তার স্বামী হরিপদ পাল মাটির খেলনা শহর গ্রামে বিক্রি করেন। কল্যান পাল বলেন, মাটির দাম বেশি, খড়ির দাম বেশি, রং এর দাম বেশি- তাই আর পোষায় না । এসব বাপ দাদার পেশা বলে পাল পাড়া এখনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। আমি পাল পাড়ায় থেকেও এসব ছেড়ে পড়ালেখা শিখে শিক্ষকতা করছি। তারপরও ভালো লাগে পালপাড়ায়। এখানে এলে বোঝা যায় মানুষ কেমন করে সারাবছর সারা মাস কাজ করে পেটের ভাত যোগাড় করে । দুর দুরান্ত থেকে মাটি কিনে এনে মাটির খেলনা বানায়। রাত দিন জমে থাকে গ্রামটি। দুর্গোৎসবকে ঘিরে গাইবান্ধার বাদিয়াখালী, পাচপীর, চন্ডিপুর, সীচা, তারাপুর, বামনডাঙ্গা, হরিপুর, কুমারপাড়া, ফুলছড়ি, বোনারপাড়াসহ অন্তত ৪৫টি পাল পাড়ার মানুষ এখন কর্ম তৎপর হয়ে উঠেছে। রাত দিন চলছে মাটির কাজ। তৈরি করছে মাটি দিয়ে হাতি ঘোড়া, কড়াই, পাখি আরও নানান খেলনা সামগ্রী সহ রঙ্গিন তৈজসপত্র।

নারী,পুরুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই এখন ব্যস্ত কাজে। কেউ মাটি কাদা করছে, কেউ বানাচ্ছে বিভিন্ন সামগ্রী, কেউ দিচ্ছে আগুন আর সব শেষে রং দিয়ে চলছে ফুটিয়ে তোলার কাজ। মাটির জিনিস কিনতে গৌতম বলেন বলেন তিনি প্রতি বছর আসেন মাটির জিনিস কিনতে। আগে ভালো পোষাতো কিন্তু এখন প্লাস্টিকের সামগ্রী আসার ফলে ব্যবসায় মার খেতে হচ্ছে।