মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

গাজীপুরে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে অবৈধ গ্যাস লাইনে অগ্নিকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

/ বিদ্যুৎ জ্বালানি

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের সীমানা প্রাচীর ওপর দিয়ে চলে যাওয়া ৩৩ হাজার কেভি বিদ্যুতের লাইনের তার ছিঁড়ে অবৈধ গ্যাস লাইনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান। মঙ্গলবার সকালে ওই অগ্নিকাণ্ডে কলেজ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

তবে মঙ্গলবার বিকালেও একাধিক লিকেজ দিয়ে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরুচ্ছে। যে কোনো সময় আবার বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তা নিচে তিতাসের সরবরাহ লাইনের ছিদ্রপথে নির্গত গ্যাসে ওপর পড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।

ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. এনামুল হক জানান, কলেজের পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীরের ওপর দিয়ে গাজীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ৩৩ হাজার কেভির লাইন চলে গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পাশে থাকা ট্রান্সফরমারে একটি বিকট শব্দে স্পাকিং হয়। এর প্রায় ১০ মিনিট পর আবারো বিকট শব্দে বিদ্যুতের তারে স্পার্কিং হয় এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের একটি তার ছিঁড়ে পড়ে। তারটি নিচে থাকা তিতাসের সরবরাহ লাইনের ছিদ্রপথে নির্গত গ্যাসের ওপর পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মো. আবু ইউসুফ জানান, কলেজের সীমানা প্রাচীর ঘেষে তিতাস গ্যাসের একটি সরবরাহ লাইন চলে গেছে। মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার ওই নির্গত গ্যাসের ওপর পড়ে গেলে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তবে আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, পাইপ লাইনের ছিদ্র বন্ধ না করলে আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিডিফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক বাহাদুর শাহ জানান, আমরা ২০১২ সালের দিকে তিতাসের সরবরাহ লাইনটি থেকে সংযোগ নিলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় কিছুদিন পর তা তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে স্যারেন্ডার করে দেই।

গাজীপুর তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন অফিসের সুপারভাইজার সামশুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই লাইনটি বন্ধ করার জন্য ভাল্বটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই মঙ্গলবার গ্যাস লাইনটির সংযোগ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার সকালে লোকবল নিয়ে লাইনটি উচ্ছেদ করা হবে।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, রাতে বৃষ্টিপাতের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে মূল লাইনে সমস্যা হলে তা বন্ধ রেখে বিকল্প হিসেবে কলেজ রুটের লাইনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। এতে ওভারলোড হওয়ায় লাইনের জাম্পারে স্পার্কিং হয়ে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে যায়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তার মেরামত করে লাইনটি সচল করা হয়েছে।