শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের দক্ষিণ বন্ধন নীতি
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের দক্ষিণ বন্ধন নীতি

তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের দক্ষিণ বন্ধন নীতি

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সঙ্গে ছয়টি দেশের সমুদ্রসীমা বিরোধ আছে। ১৯৪০ সালের পর চীন নাইন ড্যাশ লাইন-এর মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সমুদ্রের যে মালিকানা দাবি করেছে, তাতে কার্যত পুর সমুদ্র তাদের করায়ত্ত হয়। চীনের এ দাবি মানা হলে চীনের সমুদ্রসীমা তার মূল ভূমি থেকে দুই হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যায়। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হচ্ছে চীনের সমুদ্রসীমা ঢুকে পড়ে অন্য দেশের দাবিকৃত সমুদ্রসীমার মধ্যেও। শুধু সেটাই নয়, এ সাগর পুরো নিজের কবজায় রাখতে চীন অনেকগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেগুলো এ সাগরে ‘আগুন লাগিয়ে’ দিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জ থেকে চীনের দূরত্ব এর আশপাশের অন্য সব দেশের (ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম) চাইতে অনেক বেশি। কিন্তু ২০১৩ সালে চীন এ দ্বীপপুঞ্জে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করতে শুরু করে।স্বাভাবিকভাবেই ভৌগোলিকভাবে এই দ্বীপপুঞ্জের অনেক কাছাকাছি থাকা ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম তার প্রতিবাদ করেছে। চীনের এ আচরণের গৌণ কারণ হচ্ছে এই দ্বীপপুঞ্জ এলাকা তেল-গ্যাস ও মৎস্যসম্পদে ভীষণ সমৃদ্ধ। চীনের মুখ্য উদ্দেশ্য, নিজের মূল ভূমি থেকে এতটা দূরে এসে কিছু ভূখণ্ডকে নিজের বলে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে চীনের পক্ষে দক্ষিণ চীন সাগরে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। চীনের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নাজুক পরিস্থিতির সঙ্গে সি চিন পিংয়ের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ার যোগসূত্র আছে। আপাতত তাঁর অগ্রাধিকার হলো, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে অভূতপূর্বভাবে তৃতীয় মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া। কিন্তু দেশটির অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং আর্থিক বুদ্‌বুদ ফেটে যাওয়া তাঁর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাকে কিছুটা হলেও ফিকে করে দিয়েছে। তাঁর শূন্য-কোভিড নীতি বজায় রাখার জেদ অভ্যন্তরীণভাবে সমালোচিত হয়েছে এবং তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস করেছে।

ক্রমবর্ধমানভাবে দেখা যাচ্ছে, সি চিন পিং একটি বিকল্প হিসেবে জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকছেন। যখনই চীনে জনসমর্থন তৈরি করার কথা আসে, তখন জোরেশোরে তাইওয়ানের ওপর মূল ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের দাবি তোলা হয়। এই ইস্যু অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে জাতীয়তাবাদকে বেশি উসকে দিতে পারে। তাইওয়ানে মার্কিন স্পিকারের উপস্থিতি যে এটাই প্রথম তা নয়। চীনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধরে রাখতে সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সফর করা উচিত। কিন্তু সমালোচকেরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, পেলোসির এই সফর একেবারেই সময়োপযোগী ছিল না, স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছিল তাঁর সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন বোধ করবেন; কেননা তিনি যদি এর জোরালো প্রতিক্রিয়া না দেন, তাহলে এই শরতে অনুষ্ঠেয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কংগ্রেসে তিনি একজন দুর্বল নেতা হিসেবে চিত্রিত হবেন। তবে চীন প্রতিক্রিয়া হিসেবে যা করেছে, তার কোনোটাই না করলেই নয় ধরনের অনিবার্য কিছু ছিল না। চীনা নেতৃত্বের হাতে একাধিক বিকল্প ছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর এবং তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের বড় পরিসরে সামরিক মহড়া শেষে ভারত একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিষয়টা কিছুটা আশ্চর্যজনক। গত ১২ আগস্ট নয়াদিল্লি উত্তেজনা প্রশমন-এর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেয়। এরপর আগস্ট মাসের ২৮ তারিখ নয়াদিল্লি শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত নিজেদের দূতাবাসের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের সামরিকীকরণের জন্য বেইজিংকে দায়ী করে বিবৃতি দেয়। নয়াদিল্লি সেই বিবৃতিতে এক চীন নীতির প্রতি একটা অস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। ১২ বছর ধরে চীনের একটি পদক্ষেপের প্রতিবাদে ভারত প্রকাশ্যে এক চীন নীতিতে সমর্থন দেয় না। এর কারণ হলো, অরুণাচলের একটি সীমান্তপথ দিয়ে ভারতীয় ভ্রমণ কারীদের জন্য ভিসার অনুমোদন দিয়েছে বেইজিং।

কিন্ত ওই সীমান্তপথ প্রশাসনিকভাবে ভারত পরিচালনা করলেও চীন সেটিকে দক্ষিণ তিব্বতের বলে দাবি করে।এক চীন নীতির প্রতি ভারতের বর্তমান অস্পষ্ট অবস্থান তাইওয়ানের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। তাইওয়ান সম্প্রতি নতুন দক্ষিণ বন্ধননীতি নামে একটি নীতি নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে,তাইপের সঙ্গে আসিয়ান, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সম্পর্ক দৃঢ় করা। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত যদি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হতে চায়, তাহলে এক চীন নীতি নিয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বদলাতে হবে। বাণিজ্য সহযোগিতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের বন্ধন শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে ভারতকে সুস্পষ্টভাবে তার ইন্দো-মহাসাগরীয় নীতি প্রকাশ করতে হবে। চীনের সঙ্গে ভারতের যে হৃদ্যতা, তা বজায় রেখে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা সম্ভব নয়। তাইওয়ান ও ভারতের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যকার স্বার্থ।বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক বহুপক্ষীয় কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা বিমসটেকের মতো সংস্থা থাকা সত্ত্বেও ভারত খুব সতর্কভাবে তার ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল বেছে নিয়েছে। বেইজিংয়ের দিক থেকে আসা ভয়ের কারণেই এ কৌশল নিয়েছে দিল্লি। ২০২১ সালে ভুটানের ডোকলাম মালভূমিতে চীন ও ভারত মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এর আগে ২০১৮ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম দেশটির ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল কী হবে, সেই রূপরেখা ঠিক করেন। রূপরেখায় ভারত স্পষ্ট করে বলে, চীনকে ঠেকানো ভারতের লক্ষ্য নয়, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় রূপরেখায় আসিয়ানের ভূমিকা হবে কেন্দ্রীয়। রূপরেখায় বিতর্কগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুক্তবাণিজ্য এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এই রূপরেখায় আঞ্চলিক সংযুক্তি কীভাবে আরও গভীর করা যাবে, সেই বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হলে একটি উন্মুক্ত বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে গভীর সংযুক্তি প্রয়োজন।

ওদিকে ভারতের পূর্বমুখী কর্মপন্থা এবং চীনের নতুন দক্ষিণ বন্ধন নীতি এই দুয়ের মধ্যেই দুটি বিষয়ই রয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে ভারতের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর সম্পর্কিত অবস্থান জোরালো হতে থাকে। সে সময় থেকেই দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরকে বিশ্বের সাধারণ জায়গা বলে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সে বছরেই দক্ষিণ চীন সাগরে ভারত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। ভারত বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এক জোটে কাজ করছে। ২০২০ সালে নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা একটি স্বাধীন ও মুক্ত অর্থনৈতিক রূপরেখা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থার পূর্বশর্ত বলে সম্মত হন। তাইওয়ানের সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধন ভারতের ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নীতিতে বাড়তি মূল্য যোগ করতে পারে। ডোকলাম উত্তেজনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। সেখানে চীনের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ‘নমনীয়’ পথ বেছে নেওয়া এবং তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের জনগণ নয়াদিল্লির কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান সমর্থন পাচ্ছে। কিন্তু ভারত ও তাইওয়ানের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। যদিও ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ভারত ও তাইওয়ানের মধ্যে বাণিজ্য সাত গুণ বেড়েছে। কিন্তু তাইওয়ানের মোট বাণিজ্যের এটা মাত্র এক শতাংশ। ২০১৬ সালে ভারতে ভ্রমণে আসা তাইওয়ানের পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৫০০। ভারত থেকেও প্রায় একই সংখ্যক পর্যটক ওই বছর তাইওয়ানে ভ্রমণে যান।অনেকে বলে থাকেন, ভারতের এখন উচিত ২০২১ সালে শুরু করা মুক্তবাণিজ্য-সম্পর্কিত আলোচনাটি শেষ করে তাইওয়ানকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

এ ছাড়া রাজনীতি, থিঙ্কট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর করা।মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হলে ভারতে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিকাশের পথ তৈরি হবে। এ ছাড়া তাইওয়ানে ভারতের অভিবাসী পেশাজীবীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে তাইওয়ানে পাঁচ হাজারের মতো উচ্চশিক্ষিত ভারতীয় বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। ভারত-তাইওয়ান মৈত্রী স্থাপনে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাইওয়ানে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০১৫ সালে তাইওয়ানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভারতের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার, ২০২০-২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২২৩। ভারত-তাইওয়ান সংযুক্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তবে এক চীন নীতির প্রতি ভারতের বর্তমান অস্পষ্ট অবস্থান তাইওয়ানের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। চীন চাইলেই পেলোসির সফরকে উপেক্ষা করতে পারত। কিন্তু আমরা চীনকে যা দেখাতে দেখলাম, তা হলো অতি প্রতিক্রিয়া। চীনের অতিমাত্রিক প্রতিক্রিয়া এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা ইঙ্গিত দেয়, এটি দীর্ঘ পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে। চীনের প্রতিক্রিয়ার ধরন দেখে মনে হয়, পেলোসি যদি এই সফর না-ও করতেন, তাহলেও চীন তার কর্মকাণ্ডকে ন্যায়সংগত প্রমাণের জন্য অন্য কোনো অজুহাত তৈরি করত। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর বিষয়ে সি চিন পিংয়ের আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের দুর্বল অবস্থাকেও প্রতিফলিত করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নত হতে পারে বেইজিংয়ের এমন আশায় জো বাইডেন প্রশাসন পানি ঢেলে দিয়েছে। এই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই প্রকাশ্য বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং তাদের মধ্যে ঘরোয়া বৈঠকে বসে সংলাপ বিনিময়ের ঘটনা খুবই বিরল। চীন থেকে আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বহাল রয়েছে।

চীন ইঙ্গিত করছে, তাইওয়ানের কাছাকাছি তার সামরিক কার্যকলাপ এক নতুন স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এই চর্চা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে-এমন ঝুঁকি আছে।আরও বিপজ্জনক হলো, চীন অচিরেই এ সিদ্ধান্তে আসবে যে তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন একটি বাস্তব বিকল্প হিসেবে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কারণ, এক দেশ, দুই ব্যবস্থা নীতির ভিত্তিতে হংকংকে যে প্রতিশ্রুতি চীন দিয়েছিল, তা যেহেতু তারা রাখেনি। তাই তাইওয়ানের তরুণ প্রজন্ম চীনের প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস করতে পারছে না। এ অবস্থায় সি চিন পিং ক্রমবর্ধমানভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে একদিকে তাইওয়ানকে বশীভূত করতে চাইছেন, অন্যদিকে এই শক্তি প্রদর্শনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হিসেবে চিত্রায়িত করে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা মেলে ধরতে চাইছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইওয়ানকেন্দ্রিক ভূরাজনীতিতে গত সাত দশকের বিদ্যমান ভারসাম্য এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দ্বীপাঞ্চলটির ভাগ্য নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। গোটা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতেই এর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।

এদিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম দুই বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপাঞ্চল তাইওয়ানকে ঘিরে দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অঞ্চলটিকে নিয়ে কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিকভাবে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তি। যতই দিন যাচ্ছে, ততই এ অবস্থান আরো কঠোর হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সক্রিয়তাও দিনে দিনে জোরালো হয়ে উঠছে, বিশেষ করে ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে। এমনকি সামনের দিনগুলোয় দুই দেশ এ নিয়ে মেরুকরণের প্রয়াসও চালাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সেক্ষেত্রে বিষয়টি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ দুটির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাটাই হয়ে দাঁড়াতে পারে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।




লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট ।

ডেল্টা টাইমস্/সিআর/এমই 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]