শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

দুই শক্তির রশি-টানাটানির মধ্যকার মানবিক সংকট
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:৩০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দুই শক্তির রশি-টানাটানির মধ্যকার মানবিক সংকট

দুই শক্তির রশি-টানাটানির মধ্যকার মানবিক সংকট

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে একটি অনিবার্য পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর বিশ্বজুড়েই যে একটি সংকট উপস্থিত হতে যাচ্ছে এবং অর্থনীতির উপর আঘাত আসতে পারে সে আঁচ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। ক্ষুধার আগুনে পুড়ছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। যাদের জীবনে দিনে একবারও খাবার জোটে না, এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। নানা সংকটে এ সংখ্যা বেড়েই চলছে।ক্ষুধার্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের অনিশ্চয়তাও তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে বিশ্বে। বর্তমানে বিশ্বের প্রতি তিনজন মানুষের একজন এ অনিশ্চয়তার শিকার। গত ২ বছর ধরে করোনা মহামারির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্তের হারে উল্লম্ফন ঘটেছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির ১ বছরেই বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষ বেড়েছে ১৮ শতাংশ, যা গত কয়েক দশকে দেখা যায়নি। এদিকে নতুন করে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এরই মধ্যে একটি ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। এটি বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি, আরও কিছু বিপর্যয় ডেকে আনবে।গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি ৭ কোটি মানুষকে অনাহারের কাছাকাছি ঠেলে দিয়েছে।রাশিয়ার অবরোধ করে রাখা কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি শুরু করতে গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে রাশিয়ার সার সরবরাহ শুরু করার চেষ্টাও চলছে। এরপরও বাস্তব অর্থেই চলতি বছর একাধিক দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে ডব্লিউএফপি বলছে, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে যে সংকট চলছে, তা ২০২৩ সালে গিয়ে খাবার না পাওয়ার সংকটে পরিণত হবে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি এক সতর্ক বার্তায় বলেছেন, বিশ্বের সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষ অনাহারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেশে দেশে আরও ৭ কোটি মানুষকে অনাহারের কাছাকাছি ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের যে সাড়ে ৩৪ কোটি মানুষ খাদ্য নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তারা ৮২টি দেশের নাগরিক। দেশগুলোতে ডব্লিউএফপির কার্যক্রম রয়েছে। সংখ্যাটা ২০২০ সালে করোনা মহামারি আঘাত হানার আগে যত মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল, তার দ্বিগুণের বেশি। অনাহারের ঝুঁকিতে থাকা এসব মানুষের মধ্যে ৪৫টি দেশের ৫ কোটি মানুষ চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছে বলে জানান ডব্লিউএফপির প্রধান। তিনি বলেন, এত দিন যেটাকে ক্ষুধার স্রোত বলা হচ্ছিল, তা এখন ক্ষুধার সুনামিতে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতির জন্য অর্থনীতির ওপর করোনার প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানই এর জন্য দায়ি। রাশিয়াকে মোকাবিলা করা আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখে পড়ে কী মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তা ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে। ক্রেমলিনকে বিচ্ছিন্ন করার মূল্য হিসেবে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা বিশাল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খলাকে ব্যাহত করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিই সবচেয়ে বড় আঘাত এবং এটি সম্ভবত আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকবে। পৃথিবী নামক এই গ্রহের পুষ্টির চাহিদার ওপর এই সংঘাতের প্রভাব কমিয়ে আনা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। রাশিয়ার মতো ইউক্রেনও বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যশস্য ও ভোজ্যতেল সরবরাহকারী দেশ। এই কারণে মস্কো এই ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকটকে কৃত্রিমভাবে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যাতে সংকটের শিকার হওয়া বাকি বিশ্ব খাদ্যঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় হিসেবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে নতিস্বীকার করতে চাপ দেয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই এমন একটি নীতি তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্যসংকট মোকাবিলা করা উভয় লক্ষ্য অর্জন করা যায়। এটি সহজ হবে না, কিন্তু এটি অসম্ভবও নয়।

গত জুলাইয়ের শেষে তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। সে চুক্তি অনুযায়ী, কৃষ্ণসাগরের মধ্য দিয়ে শস্যের চালান সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে উভয় পক্ষ রাজি হয়েছে। চুক্তিটিতে মস্কো এবং কিয়েভ উভয়কেই যুদ্ধাঞ্চলের বাইরে অতি জরুরি খাদ্যশস্য সরবরাহকারী জাহাজগুলোতে আক্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একদিকে রাশিয়া পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের ওপর তার দখলকে সুসংহত করার চেষ্টা করছে,অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পশ্চিম-সমর্থিত সরকার দখলকৃত অঞ্চল গুলো থেকে আক্রমণকারী রুশ সেনাবাহিনীকে হটানোর জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অবস্থায় আছে। এই দুই শক্তির রশি-টানাটানির মধ্যে পড়ে বিশ্বের রুটির বাস্কেট খ্যাত ইউক্রেনে খাদ্য নেওয়ার জন্য প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন আগে থেকেই অন্যান্য দ্বন্দ্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ এবং কোভিড-১৯ মহামারি দ্বারা প্রভাবিত ছিল, এরপর এই যুদ্ধ সেখানকার পরিস্থিতিকে শোচনীয় করে তুলেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি সারের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তুলেছে। একটি বড় বৈশ্বিক সংঘাত এড়াতে এবং একই সঙ্গে রাশিয়াকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা মস্কোকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক ও আর্থিক যুদ্ধের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করেছে। ক্রেমলিন তার নিজস্ব এবং ইউক্রেনের শস্য সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও রাশিয়া তার সামরিক উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে পারছে না এবং তারা আরও আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে পারে; তথাপি খাদ্যশস্যের সরবরাহ ব্যাহত করে ক্ষুধার যন্ত্রণা তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় উন্নয়নশীল বিশ্বে খাদ্যের ঘাটতি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ অভিবাসী ইউরোপে বিপজ্জনক যাত্রার কারণ হতে পারে।

যেমনটি আরব বসন্ত এবং ইরাক ও সিরিয়ার যুদ্ধের সময় হয়েছিল। এটি ইউরোপকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।ক্রেমলিন বিশ্বাস করে, জ্বালানির মতো খাদ্যসংকটও গুলি ভরা একটি বন্দুক, যা তারা পশ্চিমের মাথায় ঠেকিয়ে রেখেছে। তবে তেল ও গ্যাসের মতো বিশ্বজনীন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ নিয়ে একটি ভারসাম্যমূলক আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা গেলে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা যাবে। এটি করা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অপুষ্টি, দুর্ভিক্ষ, ব্যাপক অভিবাসন এবং মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।রাশিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ওপর ইউরোপের নিরঙ্কুশ নির্ভরতা ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মহাদেশটি ধীরে ধীরে সেই আসক্তি থেকে নিজেকে অনেকটা মুক্ত করতে পেরেছে। এই নির্ভরতা পুরোপুরি থেকে মুক্ত হতে আরও সময় লাগবে। জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ প্রচেষ্টা। কিন্তু অন্যান্য খাদ্য-উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে আরও বেশি শস্য আহরণ ও তা সুরক্ষিত করা এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার খাদ্যকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টাকে নস্যাৎ করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।সে ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ফসলের ফলন বাড়াতে ইউক্রেনীয়, রাশিয়ান এবং বেলারুশিয়ান সারের প্রবাহ অব্যাহত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া অন্যতম প্রধান সার রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বের ২৩ শতাংশ অ্যামোনিয়া, ২১ শতাংশ পটাশ, ১৪ শতাংশ ইউরিয়া এবং ১০ শতাংশ ফসফেটের জোগান দেয় রাশিয়া।এই রাসায়নিকগুলোর আন্তর্জাতিক শস্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সার আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে রাশিয়ান সার কারখানাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এতে সারের অর্থ পরিশোধে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবহন-সম্পর্কিত বাধাগুলো এই কৌশলটির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর স্বার্থে রাশিয়ার এই সার আরও ভালোভাবে সরবরাহ করা নিশ্চিত করতে হবে।

এটি করা হলে রাশিয়াকে খুব বড় ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করা হবে তা নয়। এটি মস্কোকে খুব বেশি সাহায্য করবে না। রাশিয়ার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য রাশিয়ার সার রপ্তানিকে সহজতর করা জরুরি। দরিদ্র দেশগুলো খাদ্য নিরাপত্তা আরও খারাপ হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্যে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের ২৫ শতাংশ মানুষ তাদের একবেলার খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে যুদ্ধজনিত মূল্যজনিত প্রভাবে। বিষয়টি নিয়ে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই কারণ সারা বিশ্বের বহু দেশেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। আগামী কয়েকমাসে পৃথিবী একটি বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হওয়ার মতো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর কারণ হলো প্রথমত করোনার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, করোনার শেষ হতে না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং এর সঙ্গে বহুদিন ধরে চলে আসা সমস্যাগুলো যেমন- বিভিন্ন দেশে দ্বন্দ্ব সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা এবং শরণার্থী সংকট। এখন এ সব সমস্যা আরও বেশি তীব্র হওয়ার মুখে। কারণ বিভিন্ন দেশ খাদ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। এর মধ্যে পৃথিবীজুড়েই তীব্র শরণার্থী সংকট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দাঁড় করা কষ্টসাধ্য।সংকটের সময় রীতিমতো অস্ত্রে পরিণত হয় খাদ্য।এই কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলে খাদ্য রপ্তানিতে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যেমন ভারত বিশেষ কিছু জাতের চাল রপ্তানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এই বাস্তবতায় অনেক দেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে, যদিও তা মোটেও সহজ কাজ নয়। বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম কমলেও আঞ্চলিক ও দেশ পর্যায়ে দাম সেই হারে কমছে না। এর কারণ হিসেবে তাঁরা মূলত অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেন। সেই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধি-এসব কারণেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাম কমার প্রভাব পড়ছে না।

সেই সঙ্গে রপ্তানিকারী দেশগুলোর নীতিগত অবস্থানের প্রভাবও আছে, যেমন কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দিলেই তারা খাদ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে। চলতি বছর শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তা নয়, জলবায়ুগত কারণেও হচ্ছে। এ বছর বিশ্বজুড়েই প্রচণ্ড গরম পড়েছে। ইউরোপীয় খরা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইডি) তথ্যানুসারে, আর্দ্রতা হারিয়ে ইউরোপের ৪৭ শতাংশ এলাকার মাটি শুকিয়ে গেছে। ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে আগামী বছরের শুরুতে খাদ্যস্বল্পতার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।দরিদ্রতা মানুষের এমন এক অবস্থা যে তা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন দরকার হয় এবং সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত সুযোগের। প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাটাও সময়সাধ্য। কারণ এরই মধ্যে নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশে অপেক্ষায় থাকবে অনেকে। দরিদ্রতা, ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, রিজার্ভ কমে যাওয়া, খাদ্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি, বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রভৃতি বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘদিন ভোগাবে। এই মুহূর্তে সমস্যা মূলত যুদ্ধ নিয়ে। যদি যুদ্ধ বন্ধ করা যায় তাহলে আগামী কয়েক মাসে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে পারে। একটি ঐক্যবদ্ধ পৃথিবী এই সময় অত্যন্ত জরুরি।


লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট ।

ডেল্টা টাইমস্/সিআর/এমই 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]