শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা

বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা

যেকোন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ভর করে দেশটির নেতৃত্বের রাজনৈতিক দর্শন ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতার জন্য শুধু শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করলেই হয় না, পররাষ্ট্রনীতির সফল বাস্তবায়নের জন্য থাকতে হয় শক্তিশালী নেতৃত্ব। নীতি ও নেতৃত্ব-এ দুইয়ের ওপরই নির্ভর করে কোনও রাষ্ট্রের সাফল্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমরা এর কোনও ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবিক সমাজের দর্শনে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাপী সেই দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন নির্ধারণ করলেন-সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। বঙ্গবন্ধুর এই নীতির আলোকেই বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের এনে দিয়েছেন একটি স্বাধীন ভূখণ্ড। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সাহস, শক্তি ও সুদৃঢ় অবস্থান।মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসা ও নিখাদ দেশপ্রেম তাঁকে পরিণত করেছে সফল রাষ্ট্রনায়কে। জীবনের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে শুধু সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে একাগ্র তার চিত্ত। দক্ষতা, উন্নয়ন অভিযাত্রায় সাফল্য এবং মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি স্থান করে নিয়েছেন বাঙালীর হৃদয়ের গভীরে। প্রাণান্ত চেষ্টায় সীমাহীন অর্জনে বিশ্বের বিস্ময় তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের পর বাংলাদেশের শাসনভার নিজের কাঁধে নিয়ে যে শান্তি ও প্রগতির রাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছেন সামনে।

সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।বিশ্বশান্তির পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এ অমোঘ নীতিই এখনো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। এ মূলমন্ত্রের ওপর ভর করেই সব বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এ দেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তার শাসনামলের প্রতিটি পদে রচিত হচ্ছে সফলতার ইতিহাস। তার দূরদর্শী কূটনৈতিক নেতৃত্বের কারণে শেখ হাসিনা সরকারের বিগত ১৩ বছরে অজস্র কূটনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন দেশ ও বিশ্ব পরিমণ্ডলে গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও শান্তির প্রতীক। তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। একসময়ের ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশটি আজ আবির্ভূত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের অবিসংবাদী ভাষণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের ইউনেস্কো সদর দপ্তরের মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার ঘোষণার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত ও ঐকান্তিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় এ স্বীকৃতি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা আর স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির গৌরবময় অবদান মানব ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে ঠাঁই করে নেয় এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। বাঙালির এ অর্জন আজ বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য, যা মানবজাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়; অনুপ্রেরণা, প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শেখ হাসিনা তার যোগ্যতা, সততা, আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা

বিশ্ব দরবারে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা


বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং চলমান করোনা ভাইরাস মহামারীর কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার স্থিতিশীল ধারাক্রম বিশ্বে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

সরকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে সদ্ভাব রেখে ভারসাম্যের কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এর সুফলও পাচ্ছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া, চীন-জাপান এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব আর লুকোছাপার বিষয় নয়। বাংলাদেশ এই পাঁচ প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সংহত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কৌশলগত সামরিক সহযোগিতার সম্পর্কও গড়ে তুলতে পেরেছে।এক সময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করা হতো। যেমনটি বলেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। সে জায়গা থেকে বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের আদর্শ। স্বল্পোন্নত থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্সের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৯তম এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩তম উন্নত দেশে পরিণত হবে। দেশে ব্যাপক বেকার সমস্যা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশবিরোধী রাজাকার-আল বদরের আমলে হাহাকার ছিল। এখন মানুষের জীবনে সব ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য নিরাপত্তা, শান্তি চুক্তি, সমুদ্র বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নতিতে বিশ্বে অনুকরণীয়। প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের চেয়ে দ্রুতগতিতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

চীন, ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। সাফটা, বিমস্টেক, আপটা, ডি-৮, পিটিএ, এফটিএ উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ১২ বছরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, ন্যামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত করেছেন। পদ্মা সেতু তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের পক্ষপাতদুষ্ট নীতির প্রতি নতি স্বীকার না করে বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র স্ট্র্যাটেজিক খেলওয়াড় হিসেবে সক্ষমতার বহির্প্রকাশ করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে উপনীত হয়েছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। এই ১৭টি অভীষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে বেশিরভাগই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর সুরক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সর্বজনীন আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের সঠিক পথে অগ্রসরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছর সেপ্টম্বরে ‘এসডিজি প্রোগ্রেস এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব ও সফল কূটনৈতিক তত্পরতার ফলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা নির্ধারণসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়। ঐতিহাসিক এ নিষ্পত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকার ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই বিরোধ নিরসনে বিরল এ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে উপনীত হওয়ার এ নীতি আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত করেছে এ রায়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় সম্ভাবনাময় সব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ২০১৮ সালে ভারত ও চীনের সঙ্গে ব্লু ইকোনমি এবং মেরিটাইম খাতের মানোন্নয়নে সহযোগিতা বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।২০১৫-এ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। একই অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন প্রধানমন্ত্রীকে আইসিটিজ ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১১-এ ভূষিত হন। একই বছরে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বক্তব্য প্রদানকালে গণতন্ত্র সুসংহতকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ডাফিন ইউনিভার্সিটি গোল্ড মেডাল ২০১১-এ ভূষিত হন। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ আজ বাংলাদেশকে আরো গভীরভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষায় অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, তার মতবাদ, তার ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের কাছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহুবিধ উদ্যোগের ফলে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম, বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষা, বাংলাদেশের নীতি ও মূল্যবোধ এবং সে সঙ্গে এ দেশের সর্বকালের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নও বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে।

এমনকি পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির ধারাবাহিকতায় স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কূটনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধসমৃদ্ধ বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিবিড়করণসহ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক যে গুরুত্ব, সে গুরুত্বটি বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের ভূ-রাজনৈতিক লড়াই বা প্রতিযোগিতা চলছে। সে প্রতিযোগিতার ফলে এবং বাংলাদেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ফলে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে একটি নতুন পরিচিতি লাভ করতে পেরেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের দূরদর্শী, দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বশান্তি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে সফল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রদীপ। তার যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আজ ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল। তার নেতৃত্বেই একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে পৌঁছে যাবে আমাদের এ প্রিয় দেশটি। প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিনে শ্রদ্ধা ভরে তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি এবং তার সাথে শুভকামনা। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।



লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট ।

ডেল্টা টাইমস্/সিআর/এমই 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]