বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১ ১২ কার্তিক ১৪২৮

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে
আবির হাসান সুজন
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ৬:০৮ পিএম আপডেট: ১৩.১০.২০২১ ৬:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পরিবেশই প্রাণের ধারক, জীবনীশক্তির বাহক। সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিবেশের সঙ্গে প্রাণীর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার ওপরেই তার অস্তিত্ব নির্ভর করে আসছে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত  অবকাঠামো নির্মাণে অবৈধভাবে যে হারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে,তাতে করে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব খুব তাড়াতাড়ি বিনষ্ট হয়ে যাবে।আর বালুর পাশাপাশি নদীর তলদেশ থেকে উঠানো হচ্ছে নুড়ি।এ ছাড়া ড্রেজার থেকে নির্গত মবিল নদীর পানিতে মিশে মাছ ও জলজ প্রাণির ক্ষতি করতেছে। নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।ফলে নদী ও বসত-বাড়ির পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য পড়বে  হুমকির মুখে।


বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি নীতিমালা অমান্য করে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন করে সেগুলো ভাল মুনাফায় বিক্রি করছে। এতে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, তেমনি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এলাকার রাস্তা-ঘাট, জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা।বালু উত্তোলনে ফলে  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর পাড়।ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।এই দিকে নদী ভাঙন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে ২ থেকে ৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায়  রয়েছে। 

এভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমেই ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নদী তীরবর্তী বাড়িঘর ও আবাদি জমি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।অবৈধ বালু উত্তোলন একই সঙ্গে পরিবেশ, সামাজিক ও বাস্তুসংস্থানজনিত সমস্যার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে অবাধে বালু উত্তোলন নদীর তলদেশ ও নদীপাড়ের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। যখন নদীতে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হয়, তখন নদীর প্রবাহ কমতে থাকে। এর ফলে প্লাবনভূমি আরও নিচে নামতে শুরু করে, যার কারণে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদ ও পশুপাখি আজ বিলুপ্তির পথে।  শুধু তাই নয় বাধ ভেঙে গাছ উপড়ে পড়ছে।মাছ,নানা রকম পরিবেশের উপকারী কীট বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে।পশু পাখি এক দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ফাইটোপ্লাংক্টন, জুওপ্লাংক্টন, শৈবাল, ক্ষুদিপনা, টোপাপানা ইত্যাদি খায় এবং বড় বড় মাছ, কুমির ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ছোট মাছগুলোকে খেয়ে বাঁচে। 

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে  দেশের ১১৮ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন বলছে, এর মধ্যে 'প্রায় বিলুপ্ত' হবার পথে বাঘাইর, পিপলা শোল বা বাক্কা মাছ, মহাশোল, নান্দিলা মাছ, চান্দা, ভাঙ্গান বাটা, খরকি মাছ, কালো পাবদা, চেনুয়া মাছসহ বেশ কিছু মাছ রয়েছে।

নদীর পানি দূষণ, জলাশয় সমস্যা এবং বালু উত্তোলনের কারণে ছোট-বড় নানা জাতের দেশি মাছ ও জলজ প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। এছাড়াও খাদ্য শৃঙ্খলে ইকোসিস্টেমের গতিশীলতা হারিয়ে যাচ্ছে।

নদী থেকে বালু উঠানোয় তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ, আবাদি জমি এবং বাড়িঘর ধসে বিলীন হচ্ছে। এর ফলে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ছড়া-খাল ভাঙন, ফসলি জমি প্রভৃতি ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির মুখে পড়েছে।

২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেঘনা চর দখল ও বালুমহালকে কেন্দ্র করে ৯ জন নিহত ও প্রায় ৪০০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

তাই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও বাস্তুসংস্থান রক্ষায় রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে।আগে দেশ রক্ষা করতে হবে তারপর বালু নিয়ে রাজনীতি করতে হবে।গত কয়েক দশকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে অনেক মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে,নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে।তাই অসাধুব্যবসায়ী দের আইননের আওতায় আনতে হবে,কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে অনেক সেতুতে ভাঙন ধরছে।তাই ভাঙন রোধে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।শুধু তাই নয়,প্রচুর প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে।প্রতিটি নদীর সামনে সাইনবোর্ড টাঙানোর ব্যবস্থা করতে হবে।আশের লোক জনকে এলার্ট থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।প্রশাসনের টহল বাড়াতে হবে।মনে রাখতে হবে আগে দেশকে রক্ষা করতে হবে,দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে।যখন দেশ রক্ষা পাবে,মাটি আগের চিরচেনা প্রকৃতি ফিরে পাবে,ঠিক তখনই দেশের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ভুমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।




ডেল্টা টাইমস্/আবির হাসান সুজন/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]